‘জোর করে পুজো দখল সম্ভব নয়’, কলেজ স্কোয়ারের খুঁটিপুজোয় কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

পুজো কমিটিগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং পুজো দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারের খুঁটিপুজোয় যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপুজো কোনোভাবেই রাজনৈতিক দাপট দেখানোর মাধ্যম হতে পারে না।

পুজো দখলের সংস্কৃতি নিয়ে চরম অস্বস্তি
এদিন মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যেকোনো সমাজে প্রথা ও রীতিকে গুরুত্ব দিতে হয়। থিম বা জাঁকজমক যতই বড় হোক না কেন, মণ্ডপের ভেতরে কলাবউ স্নান না হলে সেই পুজোর কোনো ভিড় বা আবেদন থাকে না। জোর করে দুর্গাপুজো দখল করা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটি চলতে পারে না।”

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি যোগ করেন, “দলের বিধায়ক চাইলে তাদের বিধানসভা এলাকার পুজো কমিটির অংশ হতে পারেন, সভাপতি বা চেয়ারম্যানও হতে পারেন। কিন্তু তা হতে হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। রাজনৈতিক চাপের কাছে কোনো পুজো কমিটিকে নতিস্বীকার করতে হবে না।”

‘আমাকে কোনো পদে রাখবেন না’
পুজো কমিটিকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “পুজোকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলে পুজোর প্রাসঙ্গিকতা বাড়বে ঠিকই, কিন্তু তিনি না এলেও ভক্তি দিয়েই পুজো চলবে। আমার কাছে অনুরোধ, আমাকে কোনো পদে রাখবেন না। কারণ, কোনো পদে থাকলে আমি যে বার্তা আজ দিতে পারছি, তখন তা দেওয়া সম্ভব হবে না।”

ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা
কলেজ স্কোয়ারের মতো বহু মনীষীর স্মৃতি বিজড়িত পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত বলে জানান। তাঁর কথায়, “একটা সময় দুর্গাপুজোর উন্মাদনা কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা সর্বজনীন। তবে যাঁরা থিমের পুজো করেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত—ঐতিহ্য ও রীতিনীতিকে বিসর্জন দিয়ে কেবল জাঁকজমক দিয়ে পুজো হয় না।”

মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, এবছর পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে। বিধায়কদের কোনো কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে সরাসরি জানানোর জন্যও উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন শমীক।

পুজোয় রাজনীতির রঙ লাগানোর বিরুদ্ধে শমীক ভট্টাচার্যের এই কঠোর অবস্থান আসন্ন উৎসবের মরসুমে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *