কালীঘাটের বাড়ির সেই দরজা কি বন্ধ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্দরমহলে এখন কড়া নিরাপত্তা

একসময় ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট মানেই ছিল সাধারণ মানুষের জন্য খোলা এক রাজনৈতিক ঠিকানা। দলীয় কর্মী, সাংবাদিক থেকে আমজনতা—সবার জন্য যেখানে দরজা ছিল অবারিত, সময়ের স্রোতে সেই ঠিকানায় এখন কড়াকড়ি নিরাপত্তার বেষ্টনী। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের পরিবেশ ও কর্মপদ্ধতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপে ‘দুর্গ’ একসময় মুখ্যমন্ত্রী বা রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার সঙ্গে দেখা করা যতটা সহজ ছিল, বর্তমানে তা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার পরিধি বাড়তে থাকে। এখন দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা (বিকেল ৪টা থেকে ৬টা) দর্শনার্থীদের জন্য বরাদ্দ সময়। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও রয়েছে বিধিনিষেধ। বাড়ির উল্টো দিকের রাস্তায় ক্যামেরার প্রবেশ এখন কার্যত নিষিদ্ধ। বুধবার এক দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট—নেত্রীর নাগাল পাওয়া এখন সাধারণের জন্য কঠিন।
দল গোছাতে ব্যস্ত ‘মমতা’ শীর্ষস্তরের অনেক নেতার দলত্যাগ ও রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পুরোদমে ব্যস্ত দল পুনর্গঠনে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রতিদিন হাওড়া, বেহালা বা গার্ডেনরিচের মতো এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি লাগাতার বৈঠক করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়দের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মূলত সংগঠনের মেরুদণ্ড শক্ত করার চেষ্টায় ব্যস্ত।
পুরনো কর্মীদের ওপরই ভরসা ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস বা মদন মিত্রের মতো ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু মমতা ভেঙে পড়েননি। তাঁর বর্তমান লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র সেই তৃণমূল স্তরের কর্মীরা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সাথে ছায়ার মতো যুক্ত। তাঁদেরই সম্প্রতি মমতা ‘সোনার খনি’ বলে সম্বোধন করেছেন।
২০২৬-এর লড়াইয়ের বার্তা রাজনৈতিক সংকট সত্ত্বেও মমতার মনোবল অটুট। কর্মীদের তিনি বার্তা দিয়েছেন, “যাঁরা যাওয়ার তাঁরা চলে যাবেন। কিন্তু যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁরাই আমার আসল শক্তি।” ১৯৯৭ কিংবা ২০০৪ সালের সংগ্রামের স্মৃতি হাতড়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, নতুন করে লড়াই করার শক্তি আজও তাঁর রয়েছে।
দলের অন্দরের ভাঙন ও বাইরের রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন তাঁর এই ‘সোনার খনি’ কর্মীদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে? এটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।