“প্রতিটি জীবন মূল্যবান”-ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে কেন্দ্রকে নির্দেশ হাইকোর্টের

টানা ১৯ দিনের অনশনে ক্রমাগত শারীরিক অবনতি ঘটছে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকের। তাঁর জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রতিবাদ বা আন্দোলনের অধিকার থাকলেও, জীবনের মূল্য যে অপরিসীম—সেটিই এদিন মনে করিয়ে দিয়েছে আদালত। আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, “প্রতিটি জীবন মূল্যবান।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সরকারি চিকিৎসকরা ওয়াংচুকের পরীক্ষা করেছেন এবং চিকিৎসকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে।
কেমন আছেন সোনম? ২০ জুন থেকে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ১৯ দিনের অনশনে তাঁর শরীর এখন অত্যন্ত দুর্বল। বুধবার প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী:
-
ওজন: ৬৬ কেজি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭.১৫ কেজিতে। (গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০০ গ্রাম কমেছে)।
-
রক্তচাপ ও সুগার: শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
-
সোনমের বার্তা: যদিও তিনি ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমি খুব খারাপ অবস্থায় নেই যে দু-চার দিনেই সব শেষ হয়ে যাবে।”
সমর্থকদের ভিড় যন্তর মন্তরে শুরুতে জনমানসে সাড়া কম থাকলেও, সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই যন্তর মন্তরে ভিড় বাড়ছে। সাধারণ মানুষ, অভিভাবক থেকে শুরু করে পড়ুয়ারা—সকলেই এখন সোনমের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে নিট কাণ্ডে মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির তীব্র গরম উপেক্ষা করে এই লড়াই যে এখন দেশজুড়ে এক বড় আবেগ হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর প্রশাসন সোনমের চিকিৎসায় কতটা তৎপর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অনশনরত একজন সমাজসৈনিকের প্রাণ বাঁচাতে সরকার কি দ্রুত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে? সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।