তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এর জয়যাত্রা? লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর বড় দাবি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলত্যাগী ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এর প্রতিনিধিরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পরই বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন করে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়ার ইঙ্গিত জোরালো হয়েছে।
কী দাবি বিদ্রোহী নেতাদের?
সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, তাঁদের জন্য সংসদে আলাদা আসন বিন্যাসের পাশাপাশি নতুন সংসদ ভবনে একটি পৃথক কার্যালয় বরাদ্দের বিষয়ে স্পিকার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।
অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পথে এনসিপিআই?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের ফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুলাই আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই-এর দুই প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়াকে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ নবগঠিত দলের জন্য এক ধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’ বলেই মনে করছেন।
তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়বে?
তৃণমূল কংগ্রেসের এক বড় অংশের দলত্যাগ এবং এনসিপিআই হিসেবে সংসদে তাদের নতুন অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আগামী বাদল অধিবেশনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। একদিকে দল ভাঙনের ক্ষত, অন্যদিকে সংসদে নিজের দলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দলের স্বীকৃতি পাওয়া—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে আগামী কয়েকটা দিন বেশ সরগরম থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
সংসদের ভেতরে বিদ্রোহী সাংসদদের এই নতুন পরিচয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদদের সঙ্গে কোন ধরনের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।