রেড অ্যালার্টের চোখরাঙানি, তবুও লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল! আজ থেকে শুরু পুরীর ঐতিহাসিক রথযাত্রা

আজ বৃহস্পতিবার, আষাঢ়ের মাহেন্দ্রক্ষণে পুরীর রাজপথে গড়িয়ে চলেছে মহাপ্রভু জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার পবিত্র রথ। তবে এই উৎসবের আনন্দ এবার মিশ্রিত হয়েছে উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে। আবহাওয়া দফতরের ‘রেড ওয়ার্নিং’ এবং করোনাসংক্রমণের আশঙ্কার মধ্যেও পুণ্যার্থীদের আবেগ বাঁধ মানছে না।
আবহাওয়ার চোখরাঙানি ও করোনা সতর্কতা
গত ২৪ ঘণ্টায় পুরীতে রেকর্ড ১৪৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের লাল সতর্কতা জারি করা সত্ত্বেও শহর জুড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওড়িশা সরকার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গঞ্জাম জেলায় ‘হাই অ্যালার্ট’ এবং পুরী জুড়ে পুণ্যার্থীদের র্যান্ডম করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নতুন রূপ
২০২৫ সালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার প্রশাসন কোনো খামতি রাখেনি। গোটা শহরকে ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’। ১২,০০০ পুলিশ কর্মী, ২০০ জন একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৯ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের নেতৃত্বে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমনকী ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জওয়ানরাও।
ভিআইপি সংস্কৃতির ওপর রাশ
গত বছরের বিশৃঙ্খলা রুখতে বর্তমান সরকার এবার পাস ইস্যুর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মন্ত্রী বা বিধায়কদের অনুগামীরা যাতে রথের চারপাশে ভিড় করতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি রাখা হয়েছে বিশেষ ‘ইভাকুয়েশন করিডোর’।
বৃষ্টির ভ্রূকুটি আর কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আজও শ্রীধাম পুরীতে অটুট ভক্তদের আবেগ। জাত-পাত নির্বিশেষে মহাপ্রভুর রথের রশিতে টান দেওয়ার সেই চিরন্তন মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রস্তুত গোটা বিশ্ব।