ইলেকট্রিক নয়, এবার ব্যাটারিচালিত! ট্রাম নিয়ে বড় চমক রাজ্যের, কোন কোন রুটে চলবে?

তিলোত্তমার হৃদস্পন্দনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে হেরিটেজ যান, সেই ট্রামকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে কলকাতা। দীর্ঘ টালবাহানা ও অবলুপ্তির আশঙ্কার পর এবার ট্রামকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নিল রাজ্য সরকার। শুধু ঐতিহ্যের স্বার্থেই নয়, পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে ট্রামকে শহরের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।
পরিবহণ দপ্তরের ব্লু প্রিন্ট: ট্রাম পরিষেবা নতুন করে সাজাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘রাইটস’ (RITES)-কে। প্রাথমিক সমীক্ষার রিপোর্ট পেলেই চূড়ান্ত ব্লু প্রিন্ট তৈরি হবে। তবে এবারের ট্রাম হবে সম্পূর্ণ আলাদা। পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, ট্রাম আর পুরোনো বিদ্যুত চালিত ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হবে এই যানগুলিকে। সবথেকে বড় চমক—এই ট্রামগুলি তৈরি হবে বাংলাতেই।
নতুন রুটের পরিকল্পনা: শুধুমাত্র পুরোনো রুট নয়, বরং শহরের আধুনিক এলাকা ও ধর্মীয় পর্যটনকে একসূত্রে বাঁধার ছক কষেছে পরিবহণ দপ্তর। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী:
-
দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট—ধর্মীয় বিশ্বাসকে মাথায় রেখে এই রুটে চলবে ট্রাম।
-
রাজারহাট, নিউটাউন ও সল্টলেকের মতো আধুনিক শহরতলিকেও সংযুক্ত করা হবে ট্রাম লাইনের মাধ্যমে।
ইতিহাসের সাক্ষী: ১৮৭৩ সালে শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত ঘোড়ায় টানা ট্রামের হাত ধরে কলকাতায় যে সফরের শুরু হয়েছিল, আজ তা ১৫০ বছর পেরিয়ে এসে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে। কখনও ব্রিটিশ আমল, আবার কখনও জাতীয়করণের ইতিহাস—সবকিছুর সাক্ষী এই ট্রামলাইন। যদিও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে যানজট ও ধীরগতির অভিযোগ বারবার উঠেছে, তবুও কলকাতার মানুষের আবেগ ট্রামকে ঘিরে আজও অটুট।
কেন এই উদ্যোগ? একসময়ে শহরে প্রায় ৪০টি ট্রাম রুট থাকলেও বর্তমানে তা কমে মাত্র দু’টিতে এসে ঠেকেছে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ট্রামকে আবারও জনপ্রিয় করে তোলাই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। পরিবহণ মন্ত্রীর কথায়, “পুরোনো রুট তো থাকবেই, সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিতে সাজবে আমাদের ঐতিহ্য।”
কলকাতা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সাধারণ নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তে যথেষ্ট আশাবাদী। তিলোত্তমার ব্যস্ত রাজপথে ফের ট্রামের ঘণ্টার শব্দ আর দুলতে দুলতে এগিয়ে যাওয়া—এই ছবিই এখন দেখার অপেক্ষায় শহরবাসী।