দল ছাড়ছেন পুরনো সঙ্গীরা! একাই লড়ার হুঙ্কার দিয়ে কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

মে মাসের আগে যা ছিল তৃণমূলের দাপট, গত দু’মাসে ছবিটা আমূল বদলে গেছে। একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক ও বর্ষীয়ান নেতাদের দলত্যাগে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে কোণঠাসা? কিন্তু বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে শূন্য থেকে ফের লড়াই শুরু করতে তিনি প্রস্তুত।

১৯৯৮, ২০০৪-এর মতোই লড়াইয়ের প্রস্তুতি
ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো ইতিহাস টেনে এনে বলেন, “১৯৯৮ সালে দল গড়ার পর ২০০৪ বা ১৯৯৬ সালে যখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তখনই নতুন করে শুরু করেছিলাম। ২০২৬ সালেও আমি সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।” নেত্রী স্পষ্ট করেছেন, ক্ষমতা বা পদ নয়, বরং যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই বুথ সভাপতি বা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের নিয়েই তিনি নতুন করে দল সাজাবেন।

সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বার্তা
দলের বড় নেতাদের দলত্যাগ নিয়ে মমতা বলেন, “যারা চলে যাচ্ছে, তাদের অনেক ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ বা সমস্যা রয়েছে। আমি ক্ষমা চাইছি, আমার অনেক শিক্ষা হয়েছে। অনেক অজানা সত্যি এখন আমার সামনে আসছে।” তবে তাঁর সঙ্গে এখনও ৮ জন লোকসভা সাংসদ, ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং বহু বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে দলের তরুণ প্রজন্মের কর্মীদের তিনি মাথার ওপর ছাতার মতো আগলে রাখবেন।

২১ জুলাইয়ের চ্যালেঞ্জ
২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—যেকোনো অবস্থাতেই সভা হবে। ডেকরেটর বা পরিষেবা প্রদানকারীদের ভয় দেখানো হলেও তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন। মমতার কথায়, “মাইক না পেলেও আমরা খালি গলায় বক্তৃতা দেব। প্রয়োজনে রিকশায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেব। লড়াই থামবে না।”

একসময়ের ছায়াসঙ্গীরা ছেড়ে গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনমনীয় মনোভাব তৃণমূলের অন্দরে কি নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন সেদিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *