জয় জগন্নাথ! রথের রশিতে টান দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ, পুরী থেকে আমদাবাদ—মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা

আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়ার পুণ্য তিথিতে আজ রথযাত্রা। অঝোর ধারার বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুরীর সৈকত শহর আজ ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত। জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাত্রার সাক্ষী হতে কাতারে কাতারে ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন পুরীর রাজপথে। অন্যদিকে, আমদাবাদের রাস্তায়ও চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
পুরীর রথযাত্রা ও পহন্ডি প্রক্রিয়া:
পুরীতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পবিত্র ‘পহন্ডি’ প্রক্রিয়া। শ্রীমন্দির থেকে বিগ্রহদের রথের ওপর নিয়ে আসার এই দৃশ্য অত্যন্ত আবেগঘন। এবছরও নিয়ম মেনে বিশেষ কাঠে তৈরি হয়েছে তিনটি রথ—জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রাদেবীর ‘দর্পদলন পদ্মধ্বজ’। রথযাত্রার নিয়ম অনুযায়ী, রথযাত্রার আগে পুরীর গজপতি রাজা সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথ পরিষ্কার করার আচার বা ‘ছেরা পাহরা’ পালন করেন।
আমদাবাদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুজো:
ভারতের মধ্যে পুরী ও কলকাতার পরেই অন্যতম বড় রথ উৎসব হয় আমদাবাদে। ৪০০ বছরের পুরনো জামালপুরের জগন্নাথ মন্দির আজ উৎসবের আমেজে ভাসছে। আজ ভোরবেলা আমদাবাদের এই প্রাচীন মন্দিরে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিগ্রহের দর্শনের পাশাপাশি তিনি ভোরের ‘মঙ্গলারতি’ সম্পন্ন করেন। মন্দির চত্বর থেকে রাজপথ—সকাল থেকেই ভক্তদের অগণিত লাইন নজর কাড়ছে।
রথযাত্রার গভীর দার্শনিক তাৎপর্য:
রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন:
প্রতীকী যাত্রা: রথযাত্রার শুরুতেই থাকে বলরাম (গুরুর প্রতীক), তার পেছনে সুভদ্রা (ভক্তির প্রতীক) এবং সবশেষে জগন্নাথদেব (ঈশ্বরের প্রতীক)। এই যাত্রার মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়—গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ বেয়েই ভক্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করেন।
মুক্তি ও পুণ্য: স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী, রথে উপবিষ্ট বিগ্রহ দর্শন করলে পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে মুক্তি মেলে। রথের দড়ি স্পর্শ করাকে অত্যন্ত পুণ্যময় বলে মনে করা হয়।
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট: অনেক ভক্ত ও ঐতিহাসিকের মতে, রথযাত্রা হলো শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা থেকে বৃন্দাবনে প্রত্যাবর্তনের একটি প্রতীকী রূপ।
প্রকৃতির দুর্যোগ বা বৃষ্টি—কোনোকিছুই আজ ভক্তদের অদম্য ভক্তি ও উৎসাহকে দমাতে পারেনি। পুরী থেকে আমদাবাদ, সারা দেশ আজ রথযাত্রার জয়গানে মেতেছে।