পুরীর রথযাত্রা ২০২৬: অঝোর ধারায় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জগন্নাথ দর্শনে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল

আষাঢ়ের অঝোর ধারায় সিক্ত পুরী। বুধবার থেকে শুরু হওয়া একটানা বৃষ্টি সত্ত্বেও রথযাত্রার আনন্দ ফিকে করতে পারেনি অগণিত ভক্তের উৎসাহকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে তৈরি মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুণ্য তিথিতে রথের রশিতে টান দিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরীর রাজপথে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়।

রথের সাজ ও তাৎপর্য:
প্রতিবারের মতোই পরম নিষ্ঠার সঙ্গে বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তিনটি রথ। জগন্নাথদেবের রথের নাম ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের রথ ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রাদেবীর রথ ‘দর্পদলন পদ্মধ্বজ’। রথযাত্রার এই যাত্রাপথ কেবল ভ্রমণের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা:

বলরাম: তিনি গুরুর প্রতীক।

সুভদ্রা: তিনি ভক্তির প্রতীক।

জগন্নাথ: তিনি ঈশ্বরের প্রতীক।

শাস্ত্র মতে, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ বেয়েই ভক্ত শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করেন। এই দর্শনই প্রতিটি রথযাত্রার মূল ভিত্তি।

সৈকত শহরে শিল্পীর নিবেদন:
রথযাত্রার এই বিশেষ দিনে পুরীর সমুদ্র তীরে বালি দিয়ে তৈরি প্রভু জগন্নাথের এক অনবদ্য মূর্তি গড়ে তুলেছেন পদ্মশ্রী শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েক। সমুদ্রের ঢেউ আর বৃষ্টির মধ্যেই তাঁর এই শৈল্পিক নিবেদন দেখে মুগ্ধ দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ভক্তরা।

উৎসবের আবহে পুরী:
বুধবার থেকেই পুরীতে অঝোর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারও অবিরাম ধারায় ভিজেছে সৈকত শহর। তবে প্রকৃতির এই প্রতিকূলতা ভক্তদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে ভক্তদের কণ্ঠে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি যেন সমস্ত দুর্যোগকে হার মানাচ্ছে। রথযাত্রার প্রাক্কালে পুরী এখন জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ পাওয়ার অপেক্ষায় বিভোর। প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভক্তদের ভিড় সামলাতে তৎপর সেবাইত ও পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *