ভারতের সামরিক যোগাযোগে নতুন বিপ্লব! হ্যাকিং অসম্ভব, ডিআরডিও-র কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে কিস্তিমাত

দেশের কৌশলগত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে বড় সাফল্য পেল ডিআরডিও (DRDO)। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক সংস্থা ‘ট্যাকবিট ল্যাবস’-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ফাইবার-ভিত্তিক কোয়ান্টাম কি ডিস্ট্রিবিউশন’ (QKD) সিস্টেমের সামরিক ফিল্ড ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রযুক্তি সেনার স্পর্শকাতর তথ্যকে শত্রুপক্ষের হ্যাকিং বা আড়িপাতার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবে।
কী এই কোয়ান্টাম কি ডিস্ট্রিবিউশন (QKD)?
সহজ কথায়, QKD হলো আলোর ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করে এনক্রিপশন কি (encryption keys) আদান-প্রদান করার একটি সুরক্ষিত পদ্ধতি। এর বিশেষত্ব হলো—কেউ যদি এই সংকেত চুরি বা পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে সিস্টেমটি তৎক্ষণাৎ তা ধরে ফেলবে।
একটু সহজ করে বললে—আপনি যদি কোনো চিঠি একটি বিশেষ খামে পাঠান, যা খোলা মাত্রই রঙ বদলে যায়, তবে প্রেরক ও প্রাপক সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারবেন যে কেউ সেটি পড়ার চেষ্টা করেছে। কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সুরক্ষাও ঠিক একইভাবে কাজ করে।
কেন এই প্রযুক্তি এখন জরুরি?
বর্তমানে এনক্রিপশন সিস্টেমগুলো গাণিতিক জটিলতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। কিন্তু ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার এলে বর্তমানের অনেক এনক্রিপশন ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। শত্রুপক্ষ এখন থেকেই এনক্রিপ্ট করা ডেটা সংগ্রহ করে রাখছে, যাতে ভবিষ্যতে ডিক্রিপ্ট করা যায় (একে বলা হয় ‘Harvest now, decrypt later’)। এই ঝুঁকি রুখতেই QKD প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
মাল্টি-হপ প্রযুক্তির মাহাত্ম্য:
ফাইবার অপটিক্সে কোয়ান্টাম সংকেত দীর্ঘ দূরত্বে পাঠালে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ডিআরডিও-র এই নতুন ‘মাল্টি-হপ’ (multi-hop) প্রযুক্তি দীর্ঘ পথকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিরাপদভাবে কি আদান-প্রদান করতে সক্ষম। ফলে সামরিক সদর দপ্তর থেকে কমান্ড সেন্টার—দেশের যেকোনো প্রান্তে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরবর্তী লক্ষ্য:
এর আগে ডিআরডিও এবং আইআইটি দিল্লি যৌথভাবে оптиical ফাইবার এবং ফ্রি-স্পেসের মাধ্যমে কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনের সফল পরীক্ষা করেছিল। আজকের এই ফিল্ড ট্রায়াল ভারতকে সাইবার নিরাপত্তার লড়াইয়ে অনেক ধাপ এগিয়ে দিল। যদিও সর্বশেষ ট্রায়ালে কতটা দূরত্ব কভার করা হয়েছে, তা নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা হয়েছে।