‘সবকিছুর একটা সীমা আছে’, দু’বার হাজিরা এড়ানোর পর আদালতের কড়া বার্তা, কী করলেন অভিষেক?

আদালতের নির্দেশকে শিরোধার্য করে অবশেষে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বিধাননগর আদালতে পৌঁছালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কড়া নির্দেশের পর আজ বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি। বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে তাঁর কনভয় বিধাননগর আদালত চত্বরে প্রবেশ করে।

কড়া নিরাপত্তার চাদরে আদালত চত্বর
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালত যাত্রাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর আদালত এলাকায় আজ ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। গতবার সোনারপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ এবং আধাসেনা। অভিষেককে কোনোভাবেই হেনস্থা হতে দেওয়া হবে না, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ।

আদালতের হুঁশিয়ারি ও আইনি প্রেক্ষাপট
ডিজে (DJ) মন্তব্য মামলায় এর আগেও দুবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। কিন্তু ৩০ জুন এবং ৮ জুলাই—পরপর দুবারই তিনি গরহাজির ছিলেন। এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট তীব্র ভর্ৎসনা করে জানায়, “সবকিছুর একটা সীমা আছে, আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য।” বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানাও করা হতে পারে। এই চরম হুঁশিয়ারির পরই আজ সশরীরে হাজিরা দিলেন অভিষেক।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম, তখন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “কে জেলে যাচ্ছে, কে আদালতে হাজিরা দিচ্ছে বা কে খাটের তলায় লুকিয়ে পড়ছে—এসব বিষয় নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। মানুষ এখন রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান চায়। আমরা রাজ্যের মানুষের আস্থা ফেরাতে কাজ করছি।”

তৃণমূলের অন্দরে যখন বিভিন্ন নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ছে এবং একের পর এক তলব আসছে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *