বিধবা ও ডিভোর্সি মহিলারা ‘পাবলিক প্রপার্টি’! আদনান শেখের কুৎসিত মন্তব্যে উত্তাল নেটদুনিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আবারও শিরোনামে আদনান শেখ। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে বিবাহবিচ্ছিন্না এবং বিধবা মহিলাদের উদ্দেশ্য করে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মহিলাদের ‘পাবলিক প্রপার্টি’ বা ‘জনসাধারণের সম্পত্তি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তিনি যে পিতৃতান্ত্রিক ও কুরুচিকর মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে নিন্দার ঝড় বইছে সব মহলে।

পডকাস্টে ঠিক কী বলেছিলেন আদনান?
‘আ দিল কি বাত করেঁ’ নামক একটি পডকাস্টে আদনানকে বলতে শোনা যায়, “বিধবা বা ডিভোর্সি—এই দুই ক্ষেত্রেই নারীদের হয় বিয়ে করে সম্মানজনক জীবন কাটাতে হবে, নতুবা তারা ‘পাবলিক প্রপার্টি’ হয়ে যাক। আমরা কি চাই তারা পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যাক আর বহু মানুষ তাদের ব্যবহার করুক?” নারীদের নিয়ে তাঁর এই ‘ব্যবহার করা’ ও অবমাননাকর শব্দ চয়ন নারীজাতির সম্মানে আঘাত করেছে বলে মনে করছেন সচেতন সমাজ।

তীব্র ভর্ৎসনা উরফি জাভেদের:
আদনানের এই কুরুচিকর মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার তথা অভিনেত্রী উরফি জাভেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি আদনানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “এই ধরনের পুরুষদের আদেও কোথাও কথা বলতে দেওয়া হয় কেন?” উরফির এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন হাজারো মানুষ।

নেটপাড়ার তোপের মুখে ইনফ্লুয়েন্সার:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ দর্শকরা আদনানকে তুলোধোনা করছেন। নেটিজেনদের একাংশ লিখছেন, “একজন মহিলার নাম ও পরিচয় নিয়ে এমন নোংরা কথা বলার অধিকার একে কে দিয়েছে?” অনেকেই আবার তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। একজন মুসলিম ইউজার মন্তব্য করেন, “কিছু মুসলিম পুরুষের এই ধরণের চিন্তাভাবনা দেখলে সত্যিই ভয় লাগে।”

ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক ও আদনানের অবস্থান:
উল্লেখ্য যে, আদনান শেখ এর আগেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। কিছুদিন আগে ভিনধর্মী বিয়ের পর তাঁর বোনের আনা বিস্ফোরক অভিযোগ—যেখানে দাবি করা হয়েছিল তিনি তাঁর স্ত্রীকে ধর্মান্তরিত করেছেন—তা নিয়ে ব্যাপক জলঘোলা হয়েছিল। যদিও সেই সময় আদনান ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের দোহাই দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এবার মহিলাদের প্রতি তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্য তাঁর ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।

বর্তমানে এই ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সচেতন নাগরিকেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *