অবশেষে মিলবে সরকারি তকমা? শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বড় ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের!

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক মহলে খুশির হাওয়া। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সরকার-পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
কী জানালেন শমীক ভট্টাচার্য?
সম্প্রতি ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বিজেপির শিক্ষক সেলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীকবাবু বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যের আদলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা। বিষয়টি ক্যাবিনেটে আলোচনার স্তরে রয়েছে।”
তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ
বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার রাজ্যের শিক্ষক, কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেন, “বাম আমলে শিক্ষকরা যে সম্মান ও আর্থিক সুরক্ষা পেতেন, তৃণমূল আমলে তাঁরা চরম বঞ্চনার শিকার। উন্নয়নের বদলে মানুষের করের টাকা দামি ব্যারিস্টারদের পেছনে খরচ করছে এই সরকার।”
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের লড়াই ও বঞ্চনা
বর্তমানে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা যে সুযোগ-সুবিধা পান, তা থেকে বঞ্চিত সরকার-পোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকরা। তাদের যন্ত্রণার তালিকা দীর্ঘ:
হেলথ স্কিম: সরকারি শিক্ষকরা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর সুবিধা পেলেও, বাকিরা কেবল ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র ওপর নির্ভরশীল।
ইনক্রিমেন্ট: সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা ৮-১৬-২৫ বছরে তিনটি ইনক্রিমেন্ট পান, অথচ অন্যদের ক্ষেত্রে ১০ ও ২০ বছরে মাত্র দু’টি ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
বেতন কাঠামো: সরকারি শিক্ষকদের মতো উচ্চতর বেতনহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষকদের সমমর্যাদা ও সমসুবিধার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি। এখন রাজ্য মন্ত্রিসভা এই বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষক সমাজ।