আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম দেড় লক্ষ পার! অ্যাপেলের এই নতুন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন কারণ?

স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে টেক-দুনিয়ায় জল্পনার শেষ নেই। অ্যাপেলের বর্তমান সিইও টিম কুক আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সংস্থার আসন্ন স্মার্টফোন সিরিজের দাম বাড়তে পারে। এবার সেই জল্পনা আরও জোরালো হলো আইফোন ১৮ সিরিজের সম্ভাব্য আকাশছোঁয়া দামের খবরে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, iPhone 18 Pro Max (256 GB) ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ কেন এত দাম বাড়ছে? এর পেছনে রয়েছে চাঞ্চল্যকর কারণ।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিস্ফোরক তথ্য
সম্প্রতি ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’ (Counterpoint Research) একটি BoM (Bill of Materials) চার্ট প্রকাশ করেছে। যেখানে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের কাঁচামালের খরচের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স তৈরিতে আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ২৫,০০০ টাকা) অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
কেন বাড়ছে উৎপাদন খরচ?
খরচ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে NAND (স্টোরেজ প্রযুক্তি) এবং DRAM (র্যাম প্রযুক্তি)-কে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির জয়জয়কার।
১. AI পরিকাঠামো ও ডাটা সেন্টারের প্রভাব: বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি বড় প্রযুক্তি সংস্থা AI পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত। ডাটা স্টোর, প্রসেসিং এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ ডাটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে।
২. মেমোরি চিপের বিশ্বব্যাপী সংকট: এই ডাটা সেন্টারগুলোতে বিপুল পরিমাণে মেমোরি চিপ বা DRAM ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে গোটা বিশ্বে এই চিপের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
৩. অতিরিক্ত খরচ: ঘাটতির কারণে চিপের দাম হু হু করে বাড়ছে। অ্যাপেলকেও বাধ্য হয়েই বাড়তি খরচ করে এই চিপ সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের চূড়ান্ত মূল্যে।
বিশ্লেষণ: সহজ কথায়, আপনি আপনার স্মার্টফোনে যে উন্নতমানের মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার পাচ্ছেন, তার জন্য অ্যাপেলকে বর্তমান বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম গুনতে হচ্ছে। AI বিপ্লবের এই যুগে স্টোরেজ প্রযুক্তির সংকট স্মার্টফোন প্রেমীদের পকেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চলেছে।