তৃণমূলের রোগ অনেক গভীরে! অভিষেককে সরানো প্রসঙ্গে কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

বুধবার সকালে নিউ টাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্য রাজনীতির একাধিক জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে বরাবরের মতোই চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের উপস্থিতি থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল—কোনোটাই বাদ গেল না তাঁর মন্তব্য থেকে।
সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্র: কী বললেন দিলীপ?
সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কে ভালো তৃণমূল, কে খারাপ তৃণমূল—এটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যারা অপরাধমূলক কাজে জড়িত, তাদের কাছে সমন যাবেই। সে যে দলেরই হোক না কেন। মদন মিত্র ইডি অফিসারদের সঙ্গে আগে দেখা করুন, নাহলে সন্দীপনকেও তিনি বাঁচাতে পারবেন না। ইডি ক্লিন চিট দিলে তখন দেখা যাবে।”
অভিষেককে সরিয়ে দিলেই কি তৃণমূলের মুক্তি?
তৃণমূলের বর্তমান সংকট ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে দিলীপের মন্তব্য, “অনেকেই এই প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন, কিন্তু রোগ অনেক গভীরে। শুধু হাত-পা কাটলে হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেনেশুনে সবাইকে মাথায় তুলেছিলেন। এখন কাউকে বলির পাঁঠা করার চেষ্টা চলছে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে কটাক্ষ
‘ক্যামাক স্ট্রিট তৃণমূল শেষ করে দিল’—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “উনি নিজে কখন কোন দিকে থাকেন সেটাই তো জানেন না। একটা পা কালীঘাটে, অন্যটি ঋতব্রতর দিকে। কংগ্রেস যেমন চিরকাল কনফিউজড ছিল, তৃণমূলও সেই ড্রামা করছে।”
তসলিমা নাসরিন ও মৌলবাদ প্রসঙ্গে
তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ফেরা নিয়ে দিলীপের সংযোজন, “একসময় সিপিএম মৌলবাদের চাপে তসলিমাকে ঘরছাড়া করেছিল। তৃণমূল সেই একই পথ অনুসরণ করে মৌলবাদীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। যার পরিণাম আজ তৃণমূলকে ভুগতে হচ্ছে।”
শহীদ দিবস ও ব্রিগেডের মঞ্চ
তৃণমূলের শহীদ দিবস নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কালীঘাটেই শহীদ দিবস পালন করুন। ব্রিগেডে করার লোকই নেই ওদের। যদি দম থাকে তবেই ব্রিগেডে করবেন, নাহলে ঘরের মধ্যে মালা দিয়ে সারুন।”
পরিবহন ও রথযাত্রা
শ্যামলী পরিবহনের নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দিলীপ বলেন, “ভালো বাস পরিষেবা দরকার, মানুষকে সাহায্য করবে।” অন্যদিকে, রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছর সনাতন জাগরণ অভূতপূর্ব। তিনি নিজে মায়াপুর ইস্কনের রথযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন বলেও জানান।