এক যুগ ধরে তালাবন্ধ আদিবাসী হস্টেল! ঝাড়গ্রামে ‘ভূতুড়ে’ সরকারি সম্পত্তি সংস্কারে উদ্যোগী বিজেপি বিধায়ক

পাহাড়প্রমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল, উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা। কিন্তু ২০১৪ সালে তৈরি সেই হস্টেল আজও স্বপ্নই রয়ে গেল! শিলদা চন্দ্রশেখর মহাবিদ্যালয়ের ১০০ বেডের আদিবাসী ছাত্রাবাসটি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থেকে কার্যত ‘ভূতুড়ে’ বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অব্যবহারে নষ্ট হতে থাকা এই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এবার আসরে নামলেন বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু।
অবহেলার এক যুগ:
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তৃণমূল সরকার আদিবাসী সমাজকে কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করলেও, তাদের শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে কোনোদিনও আন্তরিক ছিল না। হস্টেলটি চালু করার জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও সরকারি উদাসীনতায় বছরের পর বছর ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কলেজের পড়ুয়াদের আক্ষেপ, হস্টেলের অভাব থাকায় বহু মেধাবী ছাত্র এই কলেজে ভর্তি হতে ভয় পান। ফলে একদিকে যেমন পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, তেমনই বিঘ্নিত হচ্ছে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ।
নতুন আশায় বুক বাঁধছেন পড়ুয়ারা:
২০২৩ সালে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সুশান্ত দোলুইও জানিয়েছিলেন, আগের সরকারকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা।
কী বললেন বিধায়ক?
হস্টেলটি স্বচক্ষে পরিদর্শন করার পর বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি হস্টেলটি দেখে স্তম্ভিত। এই সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। আমরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জলের সমস্যা মিটিয়েছি। বিদ্যুৎ সংযোগসহ বাকি পরিকাঠামো আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ঠিক করে পড়ুয়াদের থাকার উপযোগী করে তোলা হবে।” ঝাড়গ্রামের তৃণমূল সাংসদ কালীপদ সরেনকেও এই উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে হস্টেলটি চালুর যে প্রতিশ্রুতি বিধায়ক দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ঝাড়গ্রামের বহু আদিবাসী পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার দীর্ঘদিনের লড়াই অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।