স্কুলের ফি দেওয়ার টাকা ছিল না, মা বন্ধক রেখেছিলেন গয়না! আজ IAS অফিসার ছেলে

দারিদ্র্য কোনোদিন মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না—এই অমোঘ সত্যটি আবারও প্রমাণ করলেন কর্নাটকের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে বিজয় দয়ারাম কে। স্কুলের মাইনে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না, মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়েছেন সরকারি স্কুলে, আবার স্কুল শেষে বাবার সঙ্গে বাজারে সবজি বিক্রি করেছেন—এমনই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে আজ তিনি ছত্তিসগড়ের গৌরেলা-পেন্দ্রা-মারওয়াহি জেলার কালেক্টর।

সংগ্রামের শৈশব: বিজয়ের বাবা একজন সাধারণ কৃষক। মাত্র দেড় একর জমিতে চাষাবাদ করে কোনোমতে চলত পরিবারের খরচ। মেধাবী বিজয়কে তার বাবা ভালো স্কুলে ভর্তি করলেও, অর্থাভাবে মাঝপথে স্কুল ছাড়তে হয়। গ্রাম থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সরকারি স্কুলে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন সবজি ক্ষেতে কাজ করা এবং বাজারে সবজি বিক্রি ছিল তাঁর রুটিন। এমনকি, মায়ের গয়না বন্ধক রেখে তাঁর পড়াশোনার খরচ চালানো হতো।

সাফল্যের সিঁড়ি: দারিদ্র্যের অন্ধকার সরিয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে টপার হন বিজয়। এরপর বেঙ্গালুরু থেকে বি.টেক পাস করে আড়াই বছর নামী সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু বাবার অনুপ্রেরণায় আইএএস (IAS) হওয়ার স্বপ্ন তিনি কোনোদিন ছাড়েননি। অবশেষে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।

আইএএস হওয়ার সফর: প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও দমে যাননি বিজয়। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন তিনি। ছত্তিশগড় ক্যাডার বেছে নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক কর্মজীবনের সূচনা করেন। বলরামপুর জেলায় প্রথম কালেক্টর হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি।

অনুপ্রেরণার উৎস: বিজয়ের জীবনে আজ সাফল্যের জোয়ার। স্ত্রী সুপ্রিদা এবং সন্তানকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে আজ তিনি প্রশাসনিক স্তরে একজন সফল এবং দায়িত্বশীল আধিকারিক। তাঁর এই লড়াই কেবল একটি চাকরির সাফল্যের কাহিনী নয়, এটি কঠোর পরিশ্রম এবং ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বর্তমান যুব সমাজের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *