রাষ্ট্রসংঘে জয়শঙ্করের বিরাট চাল! নিউ ইয়র্কে গুতেরেসের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, বিশ্বমঞ্চে বড় ধামাকার প্রস্তুতি ভারতের!

বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের দাপট প্রমাণ করতে ফের একবার বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) মর্যাদাপূর্ণ অস্থায়ী সদস্য পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জোরদার প্রচার শুরু করল নয়াদিল্লি। আর এই বিশেষ অভিযানের আবহেই নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা থেকে শুরু করে সুদানের গৃহযুদ্ধ— একাধিক জ্বলন্ত বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

কেমন কাটল বৈঠক? খোলসা করলেন বিদেশমন্ত্রী
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বথানেনি এবং ভারতীয় মিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে পৌঁছান জয়শঙ্কর। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতি সংক্ষেপে কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সুরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সবসময়ের মতোই দারুণ আলোচনা হয়েছে।”

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (X)-এ বৈঠকের ছবি শেয়ার করে জয়শঙ্কর লেখেন, “নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে দেখা করে অত্যন্ত আনন্দিত। মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন এবং সুদানের পরিস্থিতি সহ একাধিক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ও রাষ্ট্রসংঘের পারস্পরিক সহযোগিতার শক্তিকেও এই বৈঠকে আমরা স্বীকৃতি জানিয়েছি।”

বিশ্বের সামনে ভারতের ‘SHANTI’ ফর্মুলা
এদিন বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদের লড়াইয়ে ভারতের প্রচার অভিযান (Campaign) লঞ্চ করেন জয়শঙ্কর। সেখানে ভারতের মূল রণকৌশল তুলে ধরে তিনি একটি নতুন শব্দবন্ধের আত্মপ্রকাশ ঘটান— ‘SHANTI’ (Securing Holistic Advancement through Norms, Trust and Integrity অর্থাৎ নিয়ম, বিশ্বাস এবং সততার মাধ্যমে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা)।

বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আজকের পৃথিবী এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে মানবজাতির কল্যাণের জন্য আমাদের কাছে প্রযুক্তির অভাব নেই, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, হিংসা ও চরম অস্থিরতা গ্রাস করছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং নিরাপত্তা পরিষদকে পথ দেখাতে হবে।”

চীনের চোখ রাঙানি এড়িয়ে ভারতের ৬ এজেন্ডা
নিরাপত্তা পরিষদে স্থান পেলে ভারত মূলত কোন কোন বিষয়ে জোর দেবে, তার একটি রূপরেখাও পেশ করেছেন জয়শঙ্কর। ভারতের অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:

গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলির বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হওয়া।

রাষ্ট্রসংঘের বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক সংস্কার আনা।

ভবিষ্যতের জন্য আধুনিক ‘পিসকিপিং’ বা শান্তি রক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র অপব্যবহার ও হুমকি রুখে দেওয়া।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদদ দেওয়া বন্ধ করা।

তাজিকিস্তানের মুখোমুখি ভারত, লক্ষ্য ২০২৮-২৯
এদিনের প্রচার অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ভারতের প্রাচীন সভ্যতার দর্শন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বিশ্বখ্যাত বার্তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়— “এটি যুদ্ধের যুগ নয়, বরং আলোচনা ও কূটনীতির যুগ।”

উল্লেখ্য, ২০২৮-২৯ মেয়াদের এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুন মাসে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র আসনটির জন্য ভারতের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তাজিকিস্তান। এর আগে ২০২১-২২ মেয়াদে ভারত শেষবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করেছিল। এ পর্যন্ত মোট ৮ বার এই পদে থেকে বিশ্বমঞ্চ পরিচালনা করেছে নয়াদিল্লি। এবার ‘শান্তি’ ও ‘সংস্কার’-এর তাস খেলে ভারত নবমবারের জন্য এই আসনে বসতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *