অপেক্ষা ফুরোচ্ছে? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! ১.১৫ কোটি মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে তৎপরতা তুঙ্গে। প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মরত কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কমিশন ভারতজুড়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও কর্মী সংগঠনগুলির সাথে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল এই প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: বেসিক বেতন নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি
অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে মূল বেতন বা বেসিক পে নির্ধারণে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্মী সংগঠনগুলোর দাবি, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানো হলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই গুণকটি যত বেশি হবে, কর্মীদের পকেটে বাড়তি টাকা আসার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হিসাব
লেভেল ১ কর্মী: সপ্তম বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ১৮,০০০ টাকা। নতুন কমিশনে বিভিন্ন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে এটি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪,০০০ থেকে ৭২,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জল্পনা চলছে।
লেভেল ১০ কর্মী: বর্তমানে এই স্তরের কর্মীদের মূল বেতন ৫৬,১০০ টাকা থেকে শুরু। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তা ১,৬৮,৩০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কবে কার্যকর হবে অষ্টম বেতন কমিশন?
অষ্টম বেতন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলেও, এর সুপারিশ কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সরকারি মহলে আলোচনা চলছে। যদিও কমিশন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর করার লক্ষ্য রেখেছে, তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর ২০২৭ সালের মধ্যে তা কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত যে, সুপারিশ কার্যকর হওয়ার সময় বকেয়া (Arrears) সহ বর্ধিত বেতন পাবেন কর্মীরা।
শুধু বেতন নয়, আরও যা যা থাকছে
অষ্টম বেতন কমিশনের লক্ষ্য শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সার্বিক সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
মহার্ঘ ভাতা (DA): নতুন বেসিক পে-এর ওপর ভিত্তি করে ডিএ পুনর্নির্ধারণ।
বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA): শহরভিত্তিক ভাতার হার সংশোধন।
অন্যান্য সুবিধা: যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ ভাতার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আশা করছেন কর্মীরা।
বর্তমানে কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে, যার সময়সীমা ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর পরই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।