বাজারে ডিমের আকাশছোঁয়া দাম! অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে বন্ধ পুষ্টিকর খাবার, বিপাকে শিশু ও মায়েরা

বর্তমানে বাজারে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে যে বড়সড় টান ফেলেছে, তার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল সরকারি পুষ্টি প্রকল্পের ওপর। করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের প্রায় সাড়ে ৬৫০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গত ১ জুলাই থেকে ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাজেটের টানাপোড়েনে শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খাদ্যতালিকা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদানটি বাদ যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি?
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিমের জন্য বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছয় টাকা। অথচ খোলা বাজারে বর্তমানে একটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে আট টাকা বা তারও বেশি। সরকারি বরাদ্দের তুলনায় বাজারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় ডিম কেনা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সরকারি নির্দেশিকা মেনে সপ্তাহে সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার যে গোটা ডিম দেওয়ার কথা, তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভবিষ্যৎ কী হবে?
শুধু ডিম নয়, রান্নার খরচ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সমস্যার কারণে প্রতিদিনের পুষ্টিকর খিচুড়ি ও ডিমের ভারসাম্য বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উপায় না দেখে আপাতত ডিম সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলি। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধই থাকবে বলে খবর।

অভিভাবকদের ক্ষোভ:
শিশুদের পুষ্টি নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলছেন, ডিমের মতো প্রধান উপাদান না থাকলে সরকারি পুষ্টি প্রকল্পগুলো কীভাবে কাজ করবে? তাঁদের অভিযোগ, পুষ্টিকর খাদ্য না পাওয়ায় শিশু এবং মায়েরা সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *