“কাউন্সিলররা তো কেবল টাকা কামাতে বসেছে!” ক্লাব দখল নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

মঙ্গলবার সকালে ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে ফের তীব্র আক্রমণ করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেবাশ্রয় হাসপাতালের চিকিৎসা বিভ্রাট থেকে শুরু করে সুরুচি সংঘের পুজোয় বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর অনুপস্থিতি—একের পর এক ইস্যুতে শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

সেবাশ্রয় কাণ্ডে তোপ:
সেবাশ্রয় হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়ম ও এফআইআর প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। ডাক্তার ছাড়াই প্রেসক্রিপশন লেখার ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যার পরিণামে এক ব্যক্তির পা খোয়াতে হয়েছে। মানুষের সাহসে এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এর পেছনে থাকা দুর্নীতি ও ‘থ্রেট পলিটিক্স’-এর স্বরূপ সামনে আসা উচিত।”

পুরসভা ও পঞ্চায়েত পুনর্গঠন:
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ড বিন্যাসে চরম বৈষম্য রয়েছে। কোথাও ৭৬টি বুথ, তো কোথাও মাত্র ১২টি। এই অসামঞ্জস্য দূর করা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সুষ্ঠু প্রশাসন ও পরিষেবার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নতুন পঞ্চায়েত গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দিলীপ ঘোষের কথায়, “সুষ্ঠু বন্টনের জন্য ব্লক ও প্রশাসনিক এলাকা বাড়ানো জরুরি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের হাজার হাজার টাকা পড়ে থাকলেও পরিকল্পিত না থাকায় তা খরচ করতে পারছে না রাজ্য।”

‘কাটমানি’ ও দখলদারি নিয়ে আক্রমণ:
পুরসভা ও পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৫ বছরে পরিষেবা দেওয়ার চেয়ে ‘কাটমানি’ খাওয়ার দিকেই বেশি নজর দিয়েছে তৃণমূলের কাউন্সিলররা। তিনি আরও বলেন, “পার্ক, পুকুর থেকে শুরু করে নার্সিংহোম—সবই এখন শাসকদলের দখলে। এই জবরদখল ও দখলের রাজনীতি থেকে সমাজকে মুক্ত করার সময় এসেছে।”

সুরুচি সংঘ প্রসঙ্গে:
সুরুচি সংঘের পুজোর প্রস্তুতি থেকে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের দূরে থাকা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ একে ‘পরিবর্তনের শুরু’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, সামাজিক সংস্থা, ক্লাব বা ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই উচিত, রাজনৈতিক নেতাদের দখলে নয়। সব জায়গায় ‘অযোগ্য ও চোরেরা’ বসে থাকায় রাজ্যের উন্নয়ন থমকে গিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *