‘বি-টিমকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে’, ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ কুণাল ঘোষের

২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক লড়াই এখন চরমে। সোমবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শহিদ দিবস পালনের জায়গা খতিয়ে দেখলেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের শীর্ষ নেতারা—ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং জাভেদ খান। এই সমাবেশ ও প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের বক্তব্যেই স্পষ্ট হলো রাজনীতির সমীকরণ।

ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য: গান্ধী মূর্তির পাদদেশের জায়গা পরিদর্শন করার পর ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানান, এ বছর ২১শে জুলাই তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উৎসব বা নাচ-গানের আয়োজন থাকবে না। তাঁর কথায়, “আমরা এবার নাচ-গান করব না, বরং যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে শহিদ তর্পণ করব। শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

কুণাল ঘোষের পাল্টা আক্রমণ: অন্যদিকে, এই বিষয়টিকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। সমাবেশের অনুমতি পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূলকে মেয়ো রোডে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়, তবে আমাদের ভিক্টোরিয়ার সামনে সমাবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন?” কুণালের অভিযোগ, প্রশাসন মূলত ‘বি-টিম’কে সুবিধা দিতেই তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য: দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের লড়াইয়ের মাঝে ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবস কার দখলে থাকে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। একদিকে ফিরহাদ হাকিমদের সংযত শহিদ তর্পণের বার্তা, অন্যদিকে কুণাল ঘোষের প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ এবার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের এক বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *