ব্রহ্মপুত্রের ওপর চীনের তৈরি ‘টাইম বোম্ব’! যেকোনো মুহূর্তে মহাবিপর্যয়, ঘুম উড়ল ভারতেরও!

তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের (যা তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত) ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে কোমর বেঁধে নেমেছে চীন। তবে বেজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘মেডোগ হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট’ (Medog Hydropower Station)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার দেখা দিল চরম অনিশ্চয়তা। কোনো বিদেশি সংস্থা নয়, খোদ চীনের সরকারি ভূতাত্ত্বিকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। বিজ্ঞানীদের দাবি, যে বিশালাকায় বাঁধটি চীন তৈরি করছে, তার ঠিক নিচেই রয়েছে একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূগর্ভস্থ ফাটল বা সিসমিক ফল্ট লাইন (Active Seismic Fault Line)! এর ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ধসের মুখে পড়তে পারে এই মেগা প্রজেক্ট।
কী বলা হয়েছে চীনা বিজ্ঞানীদের রিপোর্টে?
‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’-র আওতাধীন গবেষকদের এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি চিনের ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নির্মাণাধীন মেডোগ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিক নিচে অবস্থিত ‘পাইঝেন ফল্ট জোন’ (Paizhen fault zone) ভূগর্ভস্থভাবে এখনও অত্যন্ত সক্রিয়। এই হিমালয় অঞ্চলে প্লেটের সামান্য নড়াচড়া, তীব্র ভূমিকম্প বা আকস্মিক ভূমিধস হলে এই বাঁধের কাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।
বিগত দিনে বেজিং বারবার দাবি করে এসেছে যে, এই বাঁধটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব। কিন্তু তাদের নিজস্ব গবেষকদের এই সতর্কবার্তা সেই আশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা দিল।
ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মহাবিপদ!
এই প্রজেক্টটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের অত্যন্ত কাছে তিব্বতের মেডোগ কাউন্টিতে অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত থেকে ভারতের অরুণাচল ও অসম হয়ে বাংলাদেশের (যমুনা নদী) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে, হিমালয়ের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্রবণ জোনে যদি কোনো বড় বিপর্যয় ঘটে, তবে বাঁধ ভাঙা জলের তোড়ে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই পাহাড়ের ঢাল শক্তিশালী করার এবং কড়া ভূতাত্ত্বিক নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন।
এক নজরে: কী এই ‘মেডোগ প্রজেক্ট’ এবং কেন এটি চীনের এত প্রিয়?
-
বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: এই প্রজেক্টের পরিকল্পিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬০ গিগাওয়াট (60 GW)।
-
বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন: বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ তৈরি হবে এখানে, যা চীনের বিখ্যাত ‘থ্রি জর্জেস ড্যাম’-এর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি!
-
নির্মাণ কাল: ২০২৫ সালে এই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।
-
চীনের লক্ষ্য: কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে এই মেগা বাঁধকে তুরুপের তাস বানিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মত: হিমালয়ের গভীর গিরিখাত দিয়ে যখন নদীটি তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে আসছে, ঠিক সেই পয়েন্টেই বাঁধ দিয়ে জলশক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে চীন। কিন্তু একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর এত বড় কাঠামো নির্মাণ করা প্রকৃতির সঙ্গে এক মারাত্মক জুয়া খেলার শামিল। ভবিষ্যতের কোনো বড় ভূমিকম্প এই মেগা প্রজেক্টকে এক লহমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে।