মহারাষ্ট্রের ‘লড়কি বেহেন যোজনা’য় বিশাল গরমিল! সাড়ে ৩ হাজার কোটির অতিরিক্ত খরচ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

মহারাষ্ট্র সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চর্চিত প্রকল্প ‘লড়কি বেহেন যোজনা’ নিয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা সিএজি-র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রতিবেদনে রাজ্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ ত্রুটি ও অস্বচ্ছতার চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের মূল অভিযোগগুলো একনজরে:
অতিরিক্ত ব্যয়: নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য ২৯,৬৯৩.০৯ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে ব্যয় করা হয়েছে ৩৩,২৩৭.২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে ৩,৫৪১.১৬ কোটি টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে, যার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বাজেটের বাইরে ঋণ: সিএজি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকার নিয়মবহির্ভূতভাবে বাজেটের বাইরে ঋণ (Off-budget borrowing) নিচ্ছে। ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত এই ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮,৬৪০ কোটি টাকায়। এই বিপুল অর্থ কোথায় এবং কীভাবে খরচ হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ বা হিসেব নেই।
ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটের (UC) অভাব: প্রায় ৪০,০৯৭ কোটি টাকা মূল্যের ১২,৮২৯টি ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বকেয়া রয়েছে। এর মানে হলো, এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তার কোনো বৈধ নথি সরকারের কাছে নেই। এটি আর্থিক নিয়মবিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছে সিএজি।
অব্যবহৃত অর্থ ও বকেয়া বিল: সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ বিভিন্ন ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশাপাশি, ৩,৫৩২ কোটি টাকা মূল্যের ১,৬৯৮টি ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট কন্টিনজেন্ট বিল’ (AC Bill) দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া রয়েছে, যা আর্থিক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
সিএজি-র এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা গোড়া থেকেই ত্রুটিপূর্ণ। কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বাজেটের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করা এবং তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকা—রাজ্যের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো সার্টিফিকেট (UC) বা হিসাব জমা না দেওয়া সরাসরি সরকারের অভ্যন্তরীণ আর্থিক নজরদারির অভাবকেই নির্দেশ করে।
বর্তমানে বিরোধী দলগুলো এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সরকার এই বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।