মরিয়া হয়ে বিদ্রোহী দলে ঘেঁষার চেষ্টা? পুত্র গ্রেপ্তারের পরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ

পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার ভোরে লটারি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন নির্মল ঘোষের ছেলে তথা তৃণমূল নেতা তীর্থঙ্কর ঘোষ। আর এরপরই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা ও হেনস্থার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন এই বিধায়ক।

গত শনিবার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে আচমকাই দেখা যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূলের জেলা কমিটি গঠনের বৈঠকে। এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। যদিও বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্মল ঘোষকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তিনি নিজেই এসেছিলেন।

এমনকি বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “আমরা ‘বেনোজল’ আটকাতে বদ্ধপরিকর এবং তার জন্য ছাঁকনি তৈরি রাখা হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আরজি কর-সহ একাধিক মামলায় নাম জড়ানো নির্মল ঘোষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ নির্মল ঘোষ ছেলে তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারি ও নিজের গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা জোরালো হতেই সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নির্মল ঘোষ। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুলিশ তাঁর পরিবার, ছেলে এবং জামাইদের অকারণে হেনস্থা করছে। যদিও আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও, শুনানির কোনো নির্দিষ্ট দিন বা আশ্বাসের কথা জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর একদিকে পুলিশি তদন্তে তীর্থঙ্কর ঘোষের গ্রেপ্তারি এবং অন্যদিকে দলীয় কর্মসূচিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা নির্মল ঘোষের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে পানিহাটির বর্তমান বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের মতো নেতারা প্রকাশ্যেই নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারি দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, তীর্থঙ্কর ঘোষ গত ২৬-এর বিধানসভা ভোটে পানিহাটি থেকে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন এবং পরাজিত হওয়ার পরেও দল তাঁকে যুব সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, পিতার মতোই কী এবার আইনি জালে পড়তে চলেছেন প্রাক্তন এই মুখ্য সচেতক? পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতির নজর পানিহাটির দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *