পুরনো গাড়ি ব্যবহার করেন? E20 পেট্রোল নিয়ে সাবধান, হতে পারে বড় বিপদ!

দেশে বর্তমানে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানলের মিশ্রণ (E20) ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব হিসেবে সরকার একে উৎসাহিত করলেও, পুরনো গাড়ির মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই নতুন জ্বালানি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি গাড়িগুলিতে E20 পেট্রোল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ফুয়েল সিস্টেমে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।
অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ঠিক কোন কোন যন্ত্রাংশের দিকে নজর রাখা জরুরি, তা নিচে দেওয়া হলো:
যেসব যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
ফুয়েল হোস: ফুয়েল হোস ট্যাঙ্ক থেকে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ করে। E20-তে ইথানলের মাত্রা বেশি হওয়ায়, সময়ের সঙ্গে এই পাইপগুলি শক্ত হয়ে ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গ্যাসকেট: ইঞ্জিন ও ফুয়েল সিস্টেমের জয়েন্টগুলো সিল করার জন্য ব্যবহৃত গ্যাসকেট E20 পেট্রোলের কারণে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে ফুয়েল লিকেজের আশঙ্কা বাড়ে।
রাবারের সিল: ফুয়েল লিক রুখতে ব্যবহৃত রাবারের সিলগুলি ইথানলের প্রভাবে তাদের নমনীয়তা হারাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
ও-রিং (O-rings): ফুয়েল ইনজেক্টর বা পাম্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত এই রিংগুলি ক্ষয়ে গেলে জ্বালানি লিকের সম্ভাবনা থাকে।
স্বস্তির খবর: যা নিয়ে চিন্তা নেই
ARAI-এর গবেষণা বলছে, ধাতব যন্ত্রাংশ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। ইঞ্জিনের মূল মেটাল পার্টসগুলিতে E20 পেট্রোলের কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে না। শুধুমাত্র রাবার এবং পলিমার নির্মিত যন্ত্রাংশগুলিই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
কারা সাবধান থাকবেন?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি মূলত সেই সমস্ত গাড়ির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যেগুলি মূলত E10 জ্বালানির জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রজন্মের গাড়ি, যেগুলি বিশেষ করে ‘E20-রেডি’ হিসেবে বাজারে এসেছে, সেগুলিতে এই সমস্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সরকারের বক্তব্য ও পরামর্শ
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এখনও পর্যন্ত E20 পেট্রোলের কারণে বড় কোনো যান্ত্রিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। তবে যেহেতু ARAI-এর রিপোর্টে রাবারের যন্ত্রাংশের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, তাই সতর্ক থাকাই শ্রেয়।