পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ! গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ

ফের উত্তপ্ত পানিহাটির রাজনীতি। বাবার পর এবার খড়দহ পুলিশের জালে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বরের একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ড্রাইভারের লটারির টাকা বন্দুক দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ঠিক কী অভিযোগ তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে?
পুলিশ সূত্রে খবর, তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বন্দুক দেখিয়ে ড্রাইভারের লটারির টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই তীর্থঙ্কর এলাকাছাড়া ছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খড়দহ থানা পুলিশ দক্ষিণেশ্বরের এক হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে খড়দহ থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে খবর। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না বা টাকা কীভাবে ভাগ হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

‘নির্মল বিভ্রাট’ ও ব্যাকফুটে প্রাক্তন বিধায়ক
একদিকে ছেলে গ্রেফতার, অন্যদিকে বাবা নির্মল ঘোষকে নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল তুঙ্গে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক ও বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল ও টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনিও দীর্ঘসময় বেপাত্তা থাকার পর গত শনিবার হঠাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠকে হাজির হন।

যদিও নির্মল ঘোষের দাবি, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু পাল্টা ঋতব্রত শিবিরের দাবি—এই নির্মল ঘোষকে তাঁরা ডাকেননি, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মেদিনীপুরের এক নির্মল ঘোষকে। রাজনৈতিক মহলে এই ‘নির্মল বিভ্রাট’ নিয়ে জোর চর্চার মাঝেই ছেলের গ্রেফতারি প্রাক্তন বিধায়কের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।

পরের টার্গেট কি নির্মল ঘোষই?
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের ছেলের গ্রেফতারি হওয়ার পর থেকেই পানিহাটিতে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি এবার পুলিশি জালে পড়তে চলেছেন নির্মল ঘোষ নিজেও? স্থানীয় বার ও হোটেলের মালিক সুশান্ত সরকারকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকেই নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এখন দেখার, বাবার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রশাসন পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *