যন্ত্রের কোনো আত্মা নেই! সাহিত্য ও সিনেমা নিয়ে কেন এমন কঠোর অবস্থানে সলমন রুশদি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর জয়জয়কারের যুগে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন সুর শোনা গেল বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক সলমন রুশদির কণ্ঠে। সাহিত্য, সিনেমা এবং গল্প বলার মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে এআই-এর কোনো জায়গা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। রুশদির মতে, প্রকৃত শিল্পের জন্ম হয় মানুষের গভীর অনুভূতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কল্পনাশক্তি থেকে, যা কোনো যান্ত্রিক প্রসেসরের পক্ষে তৈরি করা অসম্ভব।
কেন এআই-এর বিকল্প নেই মানুষের সৃজনশীলতার? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুশদি ব্যাখ্যা করেছেন, এআই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে লেখা বা চিত্রনাট্য তৈরি করতে পারলেও, তার নিজস্ব কোনো স্মৃতি বা জীবনবোধ নেই। তিনি বলেন, “গল্প লেখা বা সাহিত্য সৃষ্টির মূল শক্তি হলো মানুষের আবেগ। যন্ত্র কখনও মানুষের মতো অনুভব করতে পারে না, আর অনুভূতি ছাড়া শিল্প অসম্পূর্ণ।”
প্রযুক্তি বনাম মানুষের কল্পনা রুশদি এআই-কে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন না। তাঁর মতে, প্রযুক্তি গবেষণার কাজে বা তথ্য সংগ্রহের মতো যান্ত্রিক সহায়তায় কাজে লাগতে পারে। কিন্তু শিল্পের মৌলিক সৃজনশীলতায় মানুষের কল্পনাই শেষ কথা। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে লেখক, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা এআই-এর অত্যধিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অনেকের আশঙ্কা, এআই-এর বাড়বাড়ন্ত শিল্পের মৌলিকতা এবং স্বকীয়তাকে চিরতরে মুছে দিতে পারে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রুশদি সলমন রুশদির এই স্পষ্ট অবস্থান সাহিত্য ও প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদল মানুষ তাঁর বক্তব্যকে শিল্পের মর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে একাংশের মতে, ভবিষ্যতে এআই সৃজনশীল কাজে মানুষের এক বড় সহযোগী হিসেবে উঠে আসতে পারে। তবে রুশদির কাছে শিল্প সবসময়ই মানুষের হৃদয়ের অংশ। প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শিল্পের চালিকাশক্তি হতে পারে না—এটাই তাঁর অটল বিশ্বাস।