ঋতব্রতের তৃণমূলই আসল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অনুব্রতের!

বাংলার রাজনীতিতে ফের একবার শিরোনামে অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘ বিরতির পর বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পেয়েই বোলপুরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকে কেষ্টর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় বার্তা দলীয় কার্যালয়ে বসে তৃণমূলের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানেন দলটার এই অবস্থা কেন হল।” এখানেই থামেননি তিনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে কেষ্ট জানান, মমতা চাইলে ভবিষ্যতে এই দলেরও সুপ্রিমো হতে পারেন। তাঁর কথায়, “দিদির প্রতি আমার দুর্বলতা বরাবরই ছিল, এখনও আছে। তাই ঋতব্রতের দিকে গেলেই কাউকে বেইমান বলা যায় না।” এই বক্তব্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কেষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বিজেপির কাজের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে অনুব্রতের গলায়। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্যসাথী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তাদের কোনও খারাপ কাজ আমার চোখে পড়েনি।” বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় তিনি বলেন, “শুভেন্দু খুবই লড়াকু ছেলে। কংগ্রেস থেকে লড়াই করেই রাজনীতি শিখেছে সে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনি এমনি তাকে পাঁচ জেলার অবজারভার করেননি।”

বীরভূমে কি আর কোনো ‘গ্রুপ’ নেই? নিজের প্রত্যাবর্তনের পর বীরভূমের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে অনুব্রত বেশ আত্মবিশ্বাসী। নাম না করেই কাজল শেখের দিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “জেলায় কোনো গ্রুপ নেই। সবাই আমার সাথে আছে। ছুটকো-ছাটকা কেউ সাইডে চলে গেলে তাতে কিছু যায় আসে না।”

আগামী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে বীরভূম থেকে ২৫-৩০ হাজার কর্মী যোগ দেবেন বলে দাবি করেছেন তিনি। একদা ‘মমতার কেষ্ট’র এই রূপান্তর এবং শুভেন্দুর প্রতি তাঁর এই নরম সুর আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *