অস্ট্রেলিয়ার মডেলে ভারতেও কি নিষিদ্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া? কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সাহসী উদ্যোগকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা করছেন অনেকেই। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় তিনি জানিয়েছেন, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ার ‘নেতিবাচক প্রভাব’ থেকে রক্ষা করার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ভারতও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার চেষ্টা করছে। ভারত কি নিষেধাজ্ঞার পথে?প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি ভারতেও অদূর ভবিষ্যতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হতে যাচ্ছে? তবে আপাতত আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো আইন বা খসড়া প্রস্তাব আনা হয়নি, যা দেশজুড়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করবে। তবে আইটি মন্ত্রক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কেন অস্ট্রেলিয়ার মডেলে আগ্রহ?অস্ট্রেলিয়া সরকার গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে কার্যকর করেছে কঠোর সোশ্যাল মিডিয়া বিধি। নিয়ম অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলা বা চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোম্পানিগুলোকেই এই নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের বাস্তব চিত্রভারতের প্রেক্ষাপটে এমন আইন কার্যকর করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষজ্ঞদের মতে:বয়স যাচাই: বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মে বয়সের মিথ্যা তথ্য দেওয়া খুব সহজ, তাই কঠোর বয়সভিত্তিক যাচাইকরণ প্রয়োজন।ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা: সঠিক উপায়ে বয়স যাচাই করতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।ডিজিটাল বৈচিত্র্য: ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও পড়াশোনার কাজে ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বরং ‘গ্রেডেড রেস্ট্রিকশন’ বা বয়স অনুযায়ী সীমিত ব্যবহারের মডেল নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। ইতোমধ্যেই ভারতের কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো কিছু রাজ্য শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিজস্ব নিয়ম প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখলেও, তারা তাড়াহুড়ো না করে সব পক্ষের সাথে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগোতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।