বারুইপুর কাণ্ড: নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষের চেক ও চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

গত মঙ্গলবারের পর ফের শনিবার বারুইপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি প্রথমে নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে যান এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি যান গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। সেখানে নিহতের মা-বাবার হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক এবং তাঁর দাদার হাতে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

কী বললেন শুভেন্দু?
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী গণপিটুনির ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় যারা যুক্ত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। বিরোধী দলনেতার কথায়, “যারা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। আমি ডিজিপি-কে নির্দেশ দিয়েছি, কোনো অপরাধী যাতে গ্রেপ্তার না হয়ে পালাতে না পারে।”

রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ
সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের সময় শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এই গণপিটুনির পেছনে রাজনৈতিক ও মৌলবাদী শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে। তিনি বলেন, “নাম-পরিচয় দেখেই হত্যা করা হয়েছে। যারা ভোটে হেরেছে, তাদের এবং মৌলবাদীদের হাত থাকতে পারে এর পেছনে।” রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, চাকরি এবং ভাঙা বাড়ি সংস্কারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বার্তা
বারুইপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কে থাকা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, “অনেকে ভয়ের চোটে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। আমি পুলিশ সুপারকে (SP) বলেছি মাইকিং করতে, সব দোকান স্বাভাবিকভাবে খুলতে হবে। ধর্ষক ও খুনিরা আতঙ্কে থাকুক, সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”

অন্যান্য প্রসঙ্গ
সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি স্থানীয়রাই জানিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করছে এবং তিনি আশা করেন পুলিশ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, এদিন তিনি আবারও নিশ্চিত করেন যে, নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার এবং তাঁর পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *