‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’ গাওয়ার নতুন নিয়ম! সরকারি অনুষ্ঠানে মানতে হবে কঠোর প্রোটোকল

দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ফের কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে এই দুটি গান গাওয়ার সময় উচ্চারণ থেকে শুরু করে পরিবেশনের ক্রম—সবকিছুতে মানতে হবে নির্দিষ্ট প্রোটোকল। কোনোভাবেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা:
দেশের সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান পরিবেশনের সময় শব্দচয়ন ও উচ্চারণ হতে হবে সম্পূর্ণ নিখুঁত। গান দুটির মাঝে অন্য কোনো সঙ্গীত বা গান বাজানো যাবে না।

অনুষ্ঠানে পরিবেশনের নতুন ক্রম:
যদি কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্য সঙ্গীত, জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত—তিনটিই গাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে:

প্রথম: রাজ্য সঙ্গীত।

দ্বিতীয়: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’।

তৃতীয়: জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’।

জাতীয় গানের সময়সীমা:
সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে এবার বিশেষ নিয়ম আনা হয়েছে। এখন থেকে গানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ (৬ স্তবক) পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক, যার সময়কাল প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

শ্রোতাদের করণীয়:
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যখনই জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গান বাজানো হবে, তখন উপস্থিত সকলকে মনোযোগ সহকারে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে (Stand at attention) সম্মান জানাতে হবে। তবে সিনেমা হল, ডকুমেন্টারি বা নিউজ রিলের অংশ হিসেবে যদি এই গানগুলো বাজানো হয়, সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই।

সঠিক পাঠ ও উচ্চারণে জোর:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারবার জোর দিয়েছে যে, অনুমোদিত লিপি এবং শুদ্ধ উচ্চারণের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠানে এই নিয়মগুলি যাতে কঠোরভাবে পালিত হয়, তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে এই দুটি সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *