পূর্ব বর্ধমানে আদিবাসী গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার: গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য, তদন্তে ফরেনসিক টিম

মৃতার নাম রানি হেমরাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তাঁর স্বামীর খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধে পর্যন্ত না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পালিতপুর খালের পাশের একটি মাঠ থেকে তাঁর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ: নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে দেওয়ানদিঘি থানা। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেখ আজিজুল ও শেখ ভাদাই নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজনকে দেওয়ানদিঘি এলাকা থেকে এবং অন্যজনকে বীরভূমের নানুর থেকে ধরা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, হত্যা এবং প্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ফরেনসিক তদন্ত: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বুধবার পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অপরাধের স্থান থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করছে।

পরিবারের দাবি: নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। আদিবাসী এই গৃহবধূর মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *