‘আমি অর্ডার দিচ্ছি!’—বিচারপতিকে হুমকি মামলাকারীর, শীর্ষ আদালতে সৃষ্টি চরম বিশৃঙ্খলা

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পবিত্রতা রক্ষা করাই যেখানে প্রধান দায়িত্ব, সেখানে ভরা এজলাসে বিচারপতিকে গালিগালাজ এবং ফাইল ছুঁড়ে মারার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই ঘটনায় রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যায় আইনি মহল।
ঠিক কী ঘটেছিল এজলাসে? এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন ওই ব্যক্তি। কোনো আইনজীবী না রেখে তিনি নিজেই নিজের সওয়াল (Appearing in person) করছিলেন। শুনানির শুরু থেকেই ওই মামলাকারীর আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। আদালতের প্রথাগত শিষ্টাচার না মেনে তিনি বিচারপতির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে আদেশ দিচ্ছি যে লখনউয়ের এসিপি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিন।”
এই অদ্ভুত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবিতে অবাক হয়ে বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনি কি আমাকে আদেশ দিচ্ছেন?” এর উত্তরে মামলাকারী তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, “আমার দিক থেকে এটাই বলার ছিল।”
ফাইল ছুঁড়ে গালিগালাজ এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওই ব্যক্তি তাঁর হাতের ফাইল ও মামলার কাগজপত্র বিচারকের টেবিলের দিকে ছুঁড়ে মারেন। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে এজলাসে হুলস্থুল পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত নিরাপত্তারক্ষীরা ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরে এজলাসের বাইরে বের করে নিয়ে যান।
বিচারপতির ধৈর্যের পরীক্ষা এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধে অত্যন্ত ধৈর্য ও শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের অন্দরে এমন আক্রমণাত্মক ও অসম্মানজনক ঘটনার সাক্ষী থেকে হতবাক আইনজীবীরাও। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
আইনি মহলের মতে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের যে শ্রদ্ধা, তা এভাবে ভূলুণ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের। এই ঘটনায় ওই মামলাকারীর মানসিক অবস্থা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।