রাম ভক্তদের জন্য নতুন লড়াই! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখতে দেশব্যাপী সিগনেচার ক্যাম্পেন ঘোষণা আপ-এর

রাম মন্দিরের প্রণামী চুরি, জমি দুর্নীতি ও নির্মাণে কমিশন দুর্নীতির প্রতিবাদে এবার আন্দোলনের পথে আম আদমি পার্টি (AAP)। দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছেন, এই মহাদূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে রবিবার দিল্লিতে সুন্দরকাণ্ড পাঠ এবং দেশব্যাপী সিগনেচার ক্যাম্পেন শুরু করবে তাঁর দল।

সুন্দরকাণ্ড পাঠ ও সিগনেচার ক্যাম্পেন কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ১২ জুলাই, রবিবার সকাল ১০টায় দিল্লির রোহিণীর জেএমডি টেন্ট, জাপানি পার্কে সুন্দরকাণ্ড পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর হনুমানজির আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হবে সিগনেচার ক্যাম্পেন বা স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান। কেজরিওয়ালের কথায়, ‘‘যাঁরা রামচন্দ্রের মন্দিরে চুরি ও ডাকাতির মতো মহাপাপ করেছেন, তাঁদের সাজা দেওয়া প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর নৈতিক কর্তব্য।’’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠির দাবি এই স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে আম আদমি পার্টি প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সইসহ একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠাবে। কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘কোটি কোটি মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় রাম মন্দিরের নির্মাণে দান করা হয়েছিল। আজ সেই বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে। মন্দির ট্রাস্টের জমি কেনা থেকে শুরু করে নির্মাণকাজে যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার যথাযথ তদন্তের দাবিতেই এই অভিযান।’’

কেজরিওয়ালের মারাত্মক অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রসঙ্গ টেনে কেজরিওয়াল বলেন:

  • জমি দুর্নীতি: ২ কোটি টাকার জমি ১৮ কোটি টাকায় কেনার তথ্য প্রমাণসহ সামনে এসেছে। কিন্তু কোনো এফআইআর বা গ্রেপ্তার নেই।

  • কমিশন বিতর্ক: নির্মাণকাজে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়েও নীরব প্রশাসন।

  • প্রণামী চুরি: সিসিটিভিতে প্রণামী চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পরেও শুধুমাত্র কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে বড় রাঘব বোয়ালদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান কেজরিওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কেবল আম আদমি পার্টির কর্মসূচি নয়। সমস্ত রাম ভক্ত ও বিশ্বাসী মানুষদের এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হনুমান চালিসা পাঠ করা হবে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদী চিঠিতে সই করবেন।

রাম মন্দির ইস্যুকে কেন্দ্র করে আপ-এর এই কর্মসূচি যে আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই সিগনেচার ক্যাম্পেন ও জনরোষকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *