‘দিদি’র সাথে সম্পর্ক শেষ? নব তৃণমূলে বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন কেষ্ট, তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্য রাজনীতির নাটকীয় মোড়ে এবার কি দীর্ঘদিনের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়তে চলেছেন অনুব্রত মণ্ডল? শুক্রবার ‘নব তৃণমূল’-এর প্রথম কর্মসমিতির বৈঠককে কেন্দ্র করে বীরভূমের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবিরে যোগ দিয়ে বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিতে পারেন ‘কেষ্ট’।

নব তৃণমূলের বৈঠকে হাইভোল্টেজ জল্পনা নিউটাউনের হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০ জনের কমিটির নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সেই কর্মসমিতির প্রথম বৈঠকে অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জাভেদ খান এবং কাজল শেখের মতো হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিতি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকেই বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুব্রত মণ্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

কেন এই জল্পনা? জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই অনুব্রতর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। তিনি নিজেই একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেখানে ‘সম্মান’ পাবেন সেখানেই থাকবেন। তৃণমূলের প্রতীকের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা বললেও, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন যে চরমে, তা তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট। বিশেষ করে সিউড়ি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর পুনরায় গ্রেফতারির আশঙ্কার আবহে অনুব্রতর এই সম্ভাব্য দলবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দলবদলের মিছিলে কেষ্ট কি পরবর্তী? ইতিমধ্যেই কাজল শেখ, চন্দ্রনাথ সিনহা এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের একাধিক নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রতপন্থীদের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এখন নজর কেবল অনুব্রত মণ্ডলের দিকে। তিনি কি সত্যিই প্রিয় ‘দিদি’র ছায়া ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন? নাকি শেষ মুহূর্তে অন্য কোনো রাজনৈতিক কৌশলের পথে হাঁটবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের কাছেও আজকের কর্মসমিতির বৈঠকটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কেষ্টর পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে বীরভূমের আগামী দিনের রাজনৈতিক মানচিত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *