‘দয়া করে দলত্যাগী লিখবেন না’! বিজেপিতে নাম লিখিয়েই নতুন পরিচয় সুখেন্দু-সুস্মিতাদের

বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের দু’মাস পর রাজ্যে রাজনৈতিক দলবদলের প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটল বৃহস্পতিবার। তৃণমূলের বিদ্রোহী তিন রাজ্যসভা সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক— আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা গেরুয়া শিবিরে নতুন ইনিংস শুরু করলেন।

‘দলত্যাগী’ তকমা নয়, বিজেপির নতুন বার্তা নির্বাচনের আগে শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছিলেন, তৃণমূলের কাউকে দলে নেওয়া হবে না। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এই তিন নেতার যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক সাফ জানান, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকেই দলে জায়গা দেওয়া হয়নি। শমীকের কথায়, “যাঁরা চাকরি বিক্রি, তোলাবাজি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত নন, কেবল তাঁদেরই দলে নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ শুধুই বিজেপি কর্মী। তাঁদের নামের আগে ‘দলত্যাগী’ তকমা বসাবেন না।” তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করা মানুষগুলোর মধ্যে এই তিন নেতা ছিলেন ব্যতিক্রমী।

বিদ্রোহী তৃণমূলীদের জন্য কী বার্তা? তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষুব্ধদের জন্য বিজেপির দরজা কি খুলে গেল? শমীকের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিজেপি কেবল ক্লিন ইমেজের নেতাদেরই দলে নিতে আগ্রহী। দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা কোনো নেতাকে দলে নেওয়ার পথে হাঁটবে না গেরুয়া শিবির।

রাজ্যসভার অঙ্ক এবং বিজেপির দাপট আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে ভোট। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যায় ধস নামায় এবং দলীয় কোন্দলের জেরে এই তিন আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন তৃণমূলের হাতে নেই। কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা বিপুল ব্যবধানে এই তিনটি আসন বিজেপির দখলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বিজেপির প্রার্থী তালিকায় কারা জায়গা পান? নতুন যোগদানকারী এই তিন নেতাই কি রাজ্যসভায় বিজেপির প্রতিনিধি হবেন, নাকি অন্য কোনো চমক অপেক্ষা করছে? রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *