পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে শেষ যাত্রা! ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

বর্ষার মরসুমে ফের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশ। পরীক্ষায় মেয়েকে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে উমারিয়া জেলায় ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় গ্রামপ্রধান (সরপঞ্চ) এবং এক মহিলা পুলিশ কনস্টেবল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনুপপুর জেলার রাজেন্দ্রগ্রামের বাসিন্দা মার্কো পরিবার সোমবার ভোরে একটি এরটিগা গাড়িতে করে চিত্রকূটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পরিবারের ছোট মেয়ে খুশবু মার্কোর পরীক্ষা ছিল। ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে জাতীয় সড়ক ৪৩-এর ওপর ভারাউলা গ্রামের সিদ্ধ বাবা মন্দিরের কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। বৃষ্টিভেজা রাস্তা এবং তীব্র গতির কারণে চালক গাড়িটি সামলাতে পারেননি বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
মৃত ও আহতদের পরিচয়
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাড়িতে থাকা ৩৭ বছর বয়সী সরপঞ্চ কুলপত সিং, তাঁর স্ত্রী ও হেড কনস্টেবল সবিতা সিং মার্কো (৩২), তাঁদের তিন বছরের পুত্র রুদ্র প্রতাপ এবং কুলপত সিংয়ের ভাইয়ের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা সিং (২৪)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন খুশবু মার্কো।
অদম্য প্রচেষ্টায় ফিরে এল শ্বাস!
হাসপাতাল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর খুশবুর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দ্রুত সিপিআর (CPR) দিয়ে তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুরের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গাড়িচালক দাদান প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি গভীর মানসিক আঘাতে রয়েছেন। তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে প্রশাসন
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গাড়ি থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রশান্ত আগরওয়াল জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যে ঘাতক ট্রাক ও বিধ্বস্ত গাড়িটিকে জব্দ করেছে সিভিল লাইন্স থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, একটানা বৃষ্টির কারণে রাজ্যে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন বর্ষায় হাইওয়েতে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে।