রাম মন্দিরে প্রসাদ চুরি থেকে গো-সুরক্ষা! শঙ্করাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপিকে তোপ অখিলেশের

রাম মন্দিরে প্রসাদ চুরি, গো-সুরক্ষা এবং সনাতন ধর্মের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব। বৃহস্পতিবার জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “ধর্ম নয়, বিজেপির কাছে টাকাই এখন অগ্রাধিকার।”

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু:
শঙ্করাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর অখিলেশ যাদব জানান, তারা সনাতন ধর্মের বর্তমান সংকট এবং এর পবিত্রতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রাম মন্দিরে নৈবেদ্য চুরির ঘটনাকে তিনি একটি ‘বড় পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই চুরির ঘটনায় যুক্ত কর্মীদের সিডিআর (CDR) তদন্ত করলে দেখা যাবে, তাদের অধিকাংশই বিজেপির সমর্থক।

এসআইটি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন:
রাম মন্দির চুরির ঘটনার এসআইটি তদন্তকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন এসপি সভাপতি। তিনি বলেন, “তদন্তকারী এসআইটির সদস্যের বিরুদ্ধেই জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এই তদন্ত নিরপেক্ষ হতে পারে না।” পুরো বিষয়টিকে তিনি “দিল্লি ও লখনউয়ের মধ্যকার লড়াই” বলে অভিহিত করেন।

শঙ্করাচার্যের কড়া অবস্থান:
এই বৈঠকে রাম মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ট্রাস্টে কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রয়োজন নেই। শঙ্করাচার্যের কথায়, “ট্রাস্ট ভেঙে দিয়ে চারজন শঙ্করাচার্য এবং অযোধ্যার সাধু-ঋষিদের নিয়ে নতুন করে ট্রাস্ট গঠন করা উচিত।”

তিনি ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেবগিরি এবং চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। শঙ্করাচার্য বলেন, “চম্পত রাই সবচেয়ে বড় অপরাধী, হিসাবের দায়বদ্ধতা তারই।”

কাঠামো পরিবর্তনের ডাক:
অখিলেশ যাদব মন্তব্য করেছেন, শুধুমাত্র নিয়ম পরিবর্তন করলেই হবে না, দেশের বর্তমান সিস্টেম বা ‘পুরো কাঠামোই’ বদলানো প্রয়োজন। মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার জন্য বর্তমান সরকারকেই দায়ী করেন তিনি। বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার যে ধারা বিজেপি সরকার তৈরি করেছে, তারও তীব্র নিন্দা জানান এসপি প্রধান।

রাম মন্দির ইস্যু এবং হিন্দুধর্মের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত শঙ্করাচার্যের সঙ্গে অখিলেশের এই বৈঠক উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *