ইরানকে কি এবার ধ্বংস করবে আমেরিকা? ৯০টি ঘাঁটিতে হামলার পর কি আরও বড় যুদ্ধ আসন্ন?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আশা ধূলিসাৎ করে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশের পর এবার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বের কৌশলগত বন্দরনগরী চাবাহারে ভয়াবহ হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই এই হামলার জেরে কেঁপে ওঠে চাবাহারের বিভিন্ন এলাকা।
চাবাহারে বিস্ফোরণ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট: স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার চাবাহারের বেশ কিছু এলাকায় পরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মার্কিন বিমান হামলার ফলে ওই শহরের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। উল্লেখ্য, এতদিন চাবাহার এলাকাটি যুদ্ধের প্রভাব থেকে খানিকটা দূরে থাকলেও, এবার সেই ট্রেন্ড ভেঙে সরাসরি বন্দরনগরীতে হামলা চালাল আমেরিকা।
কেন এই হামলা? সেন্টকমের বয়ান: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান যেভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে, তা রুখতেই এই অভিযান। ইরান প্রায় ৯০টি টার্গেটকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। সেই সমস্ত সামরিক ঘাঁটি, সামুদ্রিক ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং জেটিগুলিকে ধ্বংস করতেই মার্কিন এই বিমান হামলা। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অসামরিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামো এড়িয়েই তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করছে।
পারস্পরিক হুঙ্কার ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট: মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না থামায়, তবে মার্কিন আঘাত আরও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরই এই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়েছে। পালটা জবাব দিতে গিয়ে ইরানও কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে, যার ফলে উত্তেজনা এখন চরমে।
পরিস্থিতি কতদূর যাবে? একদিকে আমেরিকার সামরিক অভিযান এবং অন্যদিকে ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি নেই’ ঘোষণার পর এই সংঘাত ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে প্রমাদ গুনছে আন্তর্জাতিক মহল।