ফের আলোচনার টেবিলে ফেরার ডাক ভারতের! পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিদেশ মন্ত্রকের কড়া বার্তা

পশ্চিম এশিয়ায় ফের শুরু হয়েছে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা। দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে বুধবার মধ্যরাত থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আক্রমণের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, যা এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক লড়াইয়ের রূপ নিতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, গত এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন আর কার্যকর নেই। এর পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কুয়েত, বাহারিন এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভারতের উদ্বেগের কারণ:
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বর্তমানে ওমান, বাহারিন এবং কুয়েতসহ একাধিক দেশ সফর করছেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
শান্তি ও স্থায়িত্ব: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
বাণিজ্যিক নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে (supply chain) বিঘ্নিত করছে।
সংযমের ডাক: ভারত সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমন (de-escalate) এবং চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব:
এই নতুন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে সরাসরি অস্থিরতা শুরু হয়েছে:
তেলের দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৭৮.৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
শেয়ার বাজার: অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হওয়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।
ভারতীয় অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার (growth rate) এবং টাকার মানের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভারতের অবস্থান:
ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের পথে কোনো সমাধান নেই। কূটনীতি ও আলোচনার পথেই একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব। সাধারণ মানুষের জীবন এবং বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে সংঘাত বন্ধে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আর্জি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।