পুজো শুরুর আর মাত্র ১০০ দিন বাকি, মাটির ও বাঁশের আকালে চাপে কুমোরটুলি

দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী আসতে আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। পুজোর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে ওঠার কথা, ঠিক সেই সময়েই একের পর এক সংকটে জর্জরিত কলকাতার মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র কুমোরটুলি। মাটির আকালের রেশ কাটার আগেই, এবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ‘বাঁশের সমস্যা’। যা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
কেন বাঁশই বড় চিন্তা? মৃৎশিল্পীদের দাবি, প্রতিমার কাঠামো তৈরির জন্য সাধারণ শুকনো বাঁশ যথেষ্ট নয়। কাঠামো মজবুত করার জন্য নদীর জলে ভেজানো বাঁশের বিকল্প নেই। শিল্পীদের কথায়, “শুকনো বাঁশ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে পুজোর সময় প্রতিমা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু নদী কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা ওয়াটার পুলিশের কড়াকড়িতে এখন ঘাটে বাঁশ ভিজিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে কুমারটুলি ঘাট, কুটি ঘাট থেকে শুরু করে নবদ্বীপ ও কাকদ্বীপের বিভিন্ন ঘাট থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে তা জলে ভিজিয়ে রাখা হতো। কিন্তু এখন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রশাসনের নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। এক আধিকারিক জানান, ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ফেলে রাখার ফলে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় উদ্ধারকাজে সমস্যা হয়, বাঁশের স্তূপের কারণে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হয় এবং তা ঘাটের সিঁড়ির ক্ষতি করে। এছাড়াও ঠিকমতো বাঁধা না থাকলে বাঁশ নদীতে ভেসে গিয়ে জলপথে দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সময় হারানোর ভয়: ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ সপ্তাহ মাটির সংকটের কারণে কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির কাজ থমকে ছিল। সেই ধাক্কা সামলে ১০ দিন হলো মাটির জোগান স্বাভাবিক হয়েছে। কাজে গতি ফেরার ঠিক মুখেই এই নতুন বিপত্তি। বর্ষার কারণে প্রতিমা শুকোতে এমনিতেই দেরি হচ্ছে, তার ওপর বাঁশের জোগান নিয়ে টানাপোড়েন চলায় অনেক কর্মশালাতেই এখন ডাবল শিফটে কাজ চলছে। হাতে থাকা সময়টুকু কীভাবে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতিমা তৈরি শেষ করা যায়, এখন সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ মৃৎশিল্পীদের কাছে।