পঞ্চায়েতে ১১ হাজার চাকরির সুযোগ! নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় বদল আনল রাজ্য, এবার ইউপিএসসি মডেলে পরীক্ষা?

পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। ১১,১৫৪টি শূন্যপদে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। সূত্রের খবর, এতদিন জেলাভিত্তিক যে ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটি’ (DLSC)-এর মাধ্যমে নিয়োগ হতো, তা বদলে এবার কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
ইউপিএসসি ধাঁচে নিয়োগের প্রস্তুতি
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ইঙ্গিত অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং বিতর্কহীন করতে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)-এর মতো কোনো স্বশাসিত সংস্থাকে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় ডিএলএসসি-এর পরিবর্তে ‘ইউপিএসসি লাইক অর্গানাইজেশন’-এর মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য। নতুন নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র মন্ত্রিসভার অনুমোদন নয়, বিধানসভাতেও এই প্রস্তাব পেশ করার প্রক্রিয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
আগের সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই বর্তমান সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে পরীক্ষার দায়ভার দিলে নিয়োগে অস্বচ্ছতার কোনো সুযোগ থাকবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার চাইছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যেন প্রশ্নাতীত হয়।
একনজরে শূন্যপদের তথ্য:
রাজ্যজুড়ে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে মোট ১১,১৫৪টি পদ ফাঁকা রয়েছে। তার মধ্যে বিভাজনটি নিম্নরূপ:
গ্রাম পঞ্চায়েত: ৯,৯৩৬টি পদ
পঞ্চায়েত সমিতি: ৬৬০টি পদ
জেলা/মহকুমা স্তর: ৫৫৮টি পদ
ইতিমধ্যেই এই ঘোষণার পর পঞ্চায়েত দপ্তরের নির্দিষ্ট পোর্টালে চাকরিপ্রার্থীদের নাম নথিভুক্ত করার হিড়িক পড়েছে। আগের সরকারের সময় ৬,৫০০টি পদে নিয়োগের অনুমোদন মিললেও, এবার সমস্ত শূন্যপদ একযোগে পূরণ করে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে চাইছে সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন এই নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই দ্রুততার সঙ্গে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।