মিছিলে ধুন্ধুমার! মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীকে সপাটে চড় মারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধবার কালীঘাট এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজনকে চড় মারতেও দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হাইকোর্টের অনুমতিপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট রুটে মিছিল চলাকালীন বিজেপির তরফ থেকে ১০টি স্টেজ করে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ ও রুলকে সম্মান জানিয়েই আমরা ধৈর্য ধরেছি, নয়তো ভিড় দশগুণ বেশি হতো।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিছিলের মধ্যে বিজেপিকে প্রবেশ করতে দেওয়ার ফলেই এই অশান্তি তৈরি হয়েছে। মমতা দাবি করেন, পরিস্থিতির জেরে প্রায় ২৫ জন তৃণমূল কর্মীকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে।
পাল্টা আক্রমণে বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল এটি। বিজেপির কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলে যাওয়ার মতো সময় নেই। নিজেদের ‘সোনার টুকরো’ ছেলেদের দিয়ে নিজ বাড়ির সামনেই তিনি তালা লাগিয়ে নিয়েছেন।” তৃণমূলের অতীত শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, বিরোধী দলগুলোকে মিছিল করতে না দেওয়া ছিল তৃণমূলের সংস্কৃতি।
তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি? দলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও। তিনি স্বীকার করে নেন যে, অতীতে তৃণমূল শাসনে বিরোধীদের মিটিং-মিছিল করতে দেওয়া হতো না। তবে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি তুলে তিনি বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টি রক্ষা করা উচিত। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।”
কালীঘাটের এই ঘটনায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের মেজাজ হারানো—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।