ধর্ষকের বাঁচার অধিকার নেই! বারুইপুর এনকাউন্টারকে সরাসরি সমর্থন অভয়ার মায়ের

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। এই বিতর্কের মধ্যেই এনকাউন্টারের সমর্থনে মুখ খুললেন আর জি করের নির্যাতিতা ‘অভয়ার’ মা রত্না দেবনাথ। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘটনাকে সমর্থন করে জানান, ধর্ষকের বেঁচে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

এনকাউন্টারকে কেন সমর্থন? ১১ বছরের নাবালিকার ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে রত্না দেবনাথ বলেন, “এতটুকু একটা বাচ্চা, যে সমাজ বোঝার আগেই পৃথিবী থেকে চলে গেল! এই এনকাউন্টারকে আমি সমর্থন করি, এটা খুব ভালো হয়েছে। ধর্ষক বা খুনিদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়।” তাঁর মতে, এমন কঠোর শাস্তিই অপরাধের প্রবণতা কমাতে পারে।

প্রশাসনের ব্যর্থতা ও ক্ষোভ আর জি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রত্না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ও তৎকালীন সরকারের মদতেই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাঁর দাবি:

  • সন্দেহজনক বিচার: সঞ্জয় রাইকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলেও, তিনি মনে করেন না বিচার হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোটা বিশ্ব জানে, সঞ্জয় একা এই কাজ করতে পারে না।”

  • তথ্য লোপাটের অভিযোগ: পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং ইনকোয়েস্ট রিপোর্টের গরমিলের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে। গলার আঙুলের ছাপ বা কামড়ের দাগ—এসবের ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহে গাফিলতি ছিল স্পষ্ট।

  • আসল অপরাধী মুক্ত: রত্নার অভিযোগ, আর জি কর কাণ্ডের সাথে জড়িত আসল অপরাধীরা এখনো হাসপাতালেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলে রত্না বলেন, অপরাধীদের মাথার ওপর প্রত্যক্ষ মদত ছিল সরকারের। তিনি মনে করেন, এখনো প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায়নি, বরং দায়সারাভাবে কয়েকজনকে সাসপেন্ড করেই দায়িত্ব শেষ করেছে বর্তমান প্রশাসন।

বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকা এক মায়ের এই চরম ক্ষোভ ও দাবি বারুইপুরকাণ্ডের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *