“চড়-থাপ্পড় মারলেন মমতা!”-ক্ষোভে ফুঁসছেন মমতা, বাড়ির সামনেই ঘটল নাটকীয় ঘটনা

বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তাল কালীঘাট। বুধবার বিকেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই ঘটল এক নাটকীয় ঘটনা। ভিড় সামলাতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারতে দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এখানেই শেষ নয়, আরও দু’জনকে পিঠে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায় তাঁকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার আদালতের অনুমতি নিয়ে বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল বের করে তৃণমূল। সেই মিছিলের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের সামনে প্রবল ভিড় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নেত্রী নিজেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। ভিড় সরাতে গিয়েই মেজাজ হারান তিনি। ঠিক কাকে বা কেন তিনি চড় মেরেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ভিড়ে থাকা কর্মী বা সমর্থকরাই এর নিশানায় ছিলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ: নিজের বাড়ির পার্টি অফিস থেকে প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, “আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে পথে নেমেছিলেন। কিন্তু পুলিশ মিছিল আটকে হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের শরীরে আঘাত করা হয়েছে। আমি নিজে যেতে পারতাম, কিন্তু তাতে ভিড় বাড়বে ভেবে যাইনি। পুলিশের এমন চেহারা আগে দেখিনি, তারা সরাসরি বিজেপিকে সাহায্য করছে।”

মমতার বিস্ফোরক দাবি: তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এই মিছিল আটকাতে পুলিশ বিজেপির লোকজনকে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় দলের অন্তত ২৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের মাথায় আঘাত রয়েছে এবং রক্ত ঝরছে। এমনকি আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনেই বিজেপির ‘গুন্ডাবাহিনী’ বাইক নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছে। হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে তৃণমূল কর্মীদের মারধর— সবটাই পুলিশের মদতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই ঘটনাকে ঘিরে কালীঘাট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদ এবং অন্যদিকে নেত্রীর এহেন আচরণের ভিডিও— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *