‘সেবাশ্রয়’ ওষুধ কেলেঙ্কারি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় বড় অভিযোগ! চাপে তৃণমূল?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সোমবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া কোস্টাল থানায় বিজেপির রাজ্য নেতা অভিজিৎ দাস ববি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পে ব্যবহৃত ওষুধের ক্রয়, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি নিয়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের করা এই অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর সহযোগী সুমিত রায়, তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় করা হয়েছে, যার সঠিক তদন্ত হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ জুন:
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগের মূল ভিত্তি গত ১০ জুনের একটি ঘটনা। অভিযোগ, সেইদিন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময় পুলিশ নমুনা সংগ্রহ করলেও কোনো এফআইআর বা মামলা রুজু করেনি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে পুনরায় সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।
কী দাবি বিজেপি নেতার?
অভিজিৎ দাস ববির মতে, উদ্ধার হওয়া ওষুধের উৎস কী? কেন এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল? সেগুলি কি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল, নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—সবটাই তদন্তের দাবি রাখে। সরকারি নিয়ম মেনে ওষুধ ধ্বংস না করে এভাবে মাটির নিচে ফেলে রাখার ঘটনা প্রশাসনিক গাফিলতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তিনি। এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওষুধের ফরেনসিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক উত্তাপ:
লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই ওষুধ উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সরকারি প্রকল্পের ওষুধ এভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে এখন শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। প্রশাসনের অন্দরেও এ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। তদন্তের দাবি জানিয়ে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।