১০ টাকার ক্লিপেই বাজিমাত! ফেরি করে কাশ্মীর ঘুরে এলেন বর্ধমানের বিভূতিবাবু

হাতে গোনা কয়েকটা টাকা দিয়ে চুল বাঁধার ক্লিপ কেনেন অনেকে। কিন্তু জানেন কি, এই সামান্য ক্লিপ বিক্রি করেই দেশের ১৫টি রাজ্য, এমনকী কাশ্মীরও ঘুরে এসেছেন পূর্ব বর্ধমানের বিভূতি মণ্ডল? তাঁর এই সাফল্যের কাহিনী যে কাউকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সাফল্যের নেপথ্যে এক ‘ক্লিপ’:
বিভূতিবাবুর বিক্রির পদ্ধতি একেবারেই আলাদা। সাইকেলের ওপর একটি পুতুলের মডেল বসিয়ে, সেই পুতুলের চুলে ক্লিপ ব্যবহার করে তিনি দেখান কীভাবে মাত্র কয়েক মিনিটে ২৫ ধরনের খোঁপা বা হেয়ারস্টাইল করা সম্ভব। অফিসের ব্যস্ততা থেকে শুরু করে বিয়ে বাড়ির জমকালো সাজ—সবই সম্ভব হয় তাঁর এই বিশেষ ক্লিপে। ১০ থেকে ২০ টাকার এই সামান্য উপকরণটিই বর্তমানে মহিলা মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
দেশ ভ্রমণের গল্প:
সামান্য এই পণ্যটি বিক্রি করেই বিভূতিবাবু পাড়ি দিয়েছেন দেশের প্রায় ১৫টি রাজ্য। কাশ্মীর ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, হকারি করতে করতেই তাঁর এই সৌভাগ্য হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণের খরচ জোগাতে তিনি স্থানভেদে দামের সামান্য পরিবর্তন করেছেন। কোথাও ১০ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম রেখেছেন তিনি। তবে বর্তমানে শান্তিপুরের রাস্তায় সাইকেল নিয়ে ঘোরার সময় তিনি মাত্র ১০ টাকা দামেই এই ক্লিপ বিক্রি করছেন।
কেন সফল বিভূতিবাবু?
দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম থেকে শহরে সাইকেলে ঘুরে ঘুরে ফেরি করেই তিনি পরিবারের অন্নসংস্থান করছেন। তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাঁর ‘প্রযুক্তি’ বা কাজের দক্ষতা। একটি ক্লিপ দিয়ে এত রকমের হেয়ারস্টাইল কীভাবে করা যায়, তা সরাসরি মডেলের মাধ্যমে দেখিয়ে দেওয়ার গুণেই আকৃষ্ট হন ক্রেতারা। ট্রেন, বাসে হকারি করে বহু পরিবারের অন্ন সংস্থান করা বিভূতিবাবু প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর দক্ষতার ওপর ভরসা থাকলে সামান্য ক্লিপ বিক্রি করেও স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব।