মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ! শীঘ্রই কি বাড়তে চলেছে রিচার্জের খরচ? জানুন বিস্তারিত

বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা করা অসম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এল এক দুঃসংবাদ। সেন্ট্রাম ইনস্টিটিউশনাল রিসার্চ (সিআইআর)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই মোবাইল ব্যবহারকারীদের পকেটের বোঝা আরও বাড়তে চলেছে। কারণ, টেলিকম সংস্থাগুলি মোবাইল ট্যারিফ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে।
ট্যারিফ বাড়তে পারে ১২-১৫ শতাংশ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মোবাইল ট্যারিফ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশে টেলিকম সংস্থার সংখ্যা কমে আসা এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের কারণে বড় সংস্থাগুলি দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন দাম বাড়ানোর পথে সংস্থাগুলি?
টেলিকম খাতের বর্তমান আর্থিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
৪জি ও ৫জি-তে স্থানান্তর: গ্রাহকরা দ্রুত ২জি থেকে ৪জি এবং ৫জি পরিষেবায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন, যার ফলে ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ছে।
পোস্টপেইড গ্রাহক: প্রি-পেইড গ্রাহকদের পাশাপাশি পোস্টপেইড গ্রাহকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণ: বর্তমানে বাজারে হাতেগোনা কয়েকটি বড় সংস্থা থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ বা বৃদ্ধির বিষয়টি তাদের পক্ষে সহজ হয়ে পড়েছে।
গ্রাহক সংখ্যায় কার অবস্থান কেমন?
এই ত্রৈমাসিকে ভারতী এয়ারটেল এবং রিলায়েন্স জিও তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিলায়েন্স জিও: প্রায় ৭০ লক্ষ নতুন গ্রাহক যুক্ত করার সম্ভাবনা।
ভারতী এয়ারটেল: ৫০ লক্ষ নতুন গ্রাহক যুক্ত হতে পারে বলে অনুমান।
ভোডাফোন আইডিয়া (VIL): এই সংস্থাটির ক্ষেত্রে গ্রাহক সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধির (প্রায় ২ লক্ষ) সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা আর্থিক সংকট কাটিয়ে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে এবং তাদের অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (AGR) সংক্রান্ত বকেয়াও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
৫জি পরিষেবার ওপর জোর
দেশজুড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি জেলায় রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেল ৫জি পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে। এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো ৫জি ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ানো এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা।