খাবারের লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে অপহরণ! ভ্যাবলা স্টেশনে অভিযুক্তকে ঘিরে জনরোষ, তারপর…

বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট। ভ্যাবলা স্টেশনে এক নাবালিকাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে ঘিরে জনতার মারধর ও বিক্ষোভের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল ভ্যাবলা স্টেশনে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানার কাঁকড়া মির্জানগর এলাকার বাসিন্দা এক নাবালিকা তার মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে গিয়েছিল। মঙ্গলবার মামার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ভ্যাবলা স্টেশনে মেয়েকে বসিয়ে রেখে মা জরুরি প্রয়োজনে স্টেশনের বাইরে যান। অভিযোগ, সেই সময় বিশ্বনাথ ঘোষ নামে এক যুবক ওই নাবালিকার পাশে এসে বসে এবং নানা কথা বলে তাকে প্রলোভন দেখাতে শুরু করে। খাবারের লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে স্টেশনের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। নাবালিকা সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে কিছুটা এগিয়েও যায়।
জনতার তৎপরতায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা:
কিছুটা যাওয়ার পরেই নাবালিকা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় বিশ্বনাথ জোর করে নাবালিকার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে। নাবালিকার চিৎকার শুনে স্টেশনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাঁরা ওই যুবককে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। বারুইপুরের ঘটনার স্মৃতি তখনও টাটকা থাকায় ক্ষুব্ধ জনতা বিশ্বনাথকে গণপিটুনি দেয়। উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে আটকে রাখে।
পুলিশি পদক্ষেপ:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বসিরহাট থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মঙ্গলবার রাতে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার জিআরপি (GRP) আধিকারিকরা বসিরহাট থানায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত বিশ্বনাথ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বারুইপুরের ঘটনার পর রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে, বসিরহাটের এই ঘটনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সে অন্য কোনো বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।